গঙ্গাসাগর: কোটি কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম শেষে এবার গঙ্গাসাগরের তটভূমিকে আদি ও অকৃত্রিম রূপে ফেরাতে ময়দানে নামলেন রাজ্যের ছয় মন্ত্রী। শুক্রবার সাতসকালে হাতে ঝাঁটা তুলে নিয়ে সৈকত সাফাইয়ে নামেন অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু, বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা-সহ মন্ত্রিসভার একঝাঁক সদস্য। ‘সৈকত পরিষ্কার আমাদের অঙ্গীকার’, এই বার্তাকে পাথেয় করে কার্যত মেলা প্রাঙ্গণের ভোল পাল্টে দেওয়ার অভিযানে নামল প্রশাসন।
পরিবেশবান্ধব মেলা প্রাঙ্গন
পরিবেশ রক্ষায় মমতার ‘মাস্টারপ্ল্যান’ এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে নিছক তীর্থ হিসেবে নয়, বরং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তোলাই ছিল নবান্নের প্রধান লক্ষ্য। মেলার শুরু থেকেই ডাস্টবিন এবং প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ইউনিটের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এদিন বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলা শুরুর আগে থেকেই সৈকতের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের অধীনে সাফাই কর্মীরা দিনরাত কাজ করেছেন, যাতে সমুদ্রতটে বর্জ্যের স্তূপ জমতে না পারে।
কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত Gangasagar beach cleaning drive
কেন্দ্রীয় পুরস্কার ও জাতীয় মেলার বিতর্ক সাফাই অভিযানের মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল যারা সবসময় রাজ্যের বদনাম করতে ব্যস্ত, তাদের সরকারই বাংলার ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পকে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা দিয়েছে। মন্ত্রীর সাফ কথা, ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের যোগদানই প্রমাণ করে দেয় গঙ্গাসাগর কেন ভারতের শ্রেষ্ঠ উৎসব। এই বিপুল জনসমর্থনই গঙ্গাসাগরকে ‘জাতীয় মেলা’র মর্যদা দিয়ে দিয়েছে, এর জন্য আর কোনও সরকারি সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।
প্রশাসনের আধিকারিক থেকে শুরু করে পুলিশকর্তা, এদিন মন্ত্রীদের এই প্রতীকী অভিযানে সামিল হয়েছিলেন সকলেই। সাফাই অভিযানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছেও পরিবেশ রক্ষার এক জোরালো বার্তা দিল রাজ্য মন্ত্রিসভা।


