SIR প্রক্রিয়ায় নথি যাচাই নিয়ে এবার কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিভিন্ন দফতরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোটারদের নথি যাচাই সম্পন্ন করতে হবে এবং কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটারদের নথি প্রথমে BLO (বুথ লেভেল অফিসার)-রা BLO অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করবেন। এই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে নথি জমা দেওয়ায় স্বচ্ছতা এবং দ্রুততা বাড়বে বলে মনে করছে কমিশন। BLO-রা নথি আপলোড করার পর সংশ্লিষ্ট জেলার DEO (District Election Officer) বা জেলা শাসক সেই নথি যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট দফতরে পাঠাবেন।
নথি আপলোড হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরকে সেই নথি যাচাই করতে হবে। এই সময়সীমাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক। কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি যাচাই না হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদি কোনও ভোটারের নথি অন্য জেলার হয়, সেক্ষেত্রে সেই জেলার DEO নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকবেন। আবার নথি যদি অন্য রাজ্যের হয়, তাহলে সেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা CEO-র কাছে নথি পাঠানো হবে। অর্থাৎ, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আন্তঃজেলা এবং আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন।
এই নথি যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে সরব হয়েছে। খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, নথি যাচাইয়ের নামে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল সিইও দফতরে গিয়ে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে। সেই দাবিগুলির মধ্যে ছিল—ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যেন বৈধ ভোটারদের নাম বাদ না পড়ে, নথি যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয় এবং BLO-দের কাজের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকায় নাম ও বয়স সংক্রান্ত একাধিক ভুল ধরা পড়েছে। কোথাও নামের বানান ভুল, কোথাও আবার বয়সের গরমিল সামনে এসেছে। এই ধরনের সমস্যার কারণেই নতুন করে নথি সংশোধন ও যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোটার তালিকা যত বেশি নির্ভুল হবে, ততই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার হতে পারে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষ, পরিযায়ী শ্রমিক বা সংখ্যালঘু ভোটারদের ক্ষেত্রে নথি সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তাদের দাবি। কমিশনের পক্ষ থেকে যদিও জানানো হয়েছে, কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্য নেই এবং অভিযোগ পেলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
