কামারহাটি পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর (Ex CPIM Councilor) অমিত পাল ওরফে গোরার মৃতদেহ উদ্ধার হল রেললাইনের পাশে। বেলঘরিয়া স্টেশনের কাছেই রেললাইনের ধারে পাওয়া যায় সিপিএমের নেতার দেহ। তিনি বেলঘরিয়ার জতীন দাস নগরের বাসিন্দা ছিলেন। অমিত পাল ২০১০ সাল থেকে দু’বার কামারহাটি পুরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
অমিত পালের (Ex CPIM Councilor) মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। তার মৃত্যু নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাম কর্মীরা। জানা গেছে, অমিত পাল কামারহাটি পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। রাতের সময় তিনি বাড়ি ফিরে না আসায়, পরিবারের সদস্যরা বেলঘরিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর বুধবার সকালে, স্থানীয়রা রেললাইনের পাশে অমিত পালের মৃতদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ দাবি করছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে।
এদিকে, কামারহাটির প্রাক্তন বিধায়ক মানস মুখোপাধ্যায় এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই এই খবরে স্তম্ভিত। আমি মনে করি, তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।’ তিনি আরও জানান, অমিত পাল একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন, যার মৃত্যু দলের জন্য বড় এক ক্ষতি।
স্থানীয় বাম কর্মীদের মতে, অমিত পালের মৃত্যু একটি গভীর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় একজন বাম কর্মী বলেন, ‘দলের পরিস্থিতি যদিও খুব ভালো ছিল না, তবুও তিনি সবসময় সক্রিয় ছিলেন। আমরা তাঁর মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।’
অমিত পালের মৃত্যু শুধু তার পরিবার বা দলীয় কর্মীদের জন্য নয়, পুরো কামারহাটি অঞ্চলের জন্য এক বড় ধাক্কা। দীর্ঘদিন ধরে দলের হয়ে কাজ করা একজন নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু রাজনৈতিক মহলে বড় আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অমিত পালের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে। তবে এ পর্যন্ত প্রাথমিক রিপোর্টে আত্মহত্যার সম্ভাবনা দেখানো হলেও, পুরো ঘটনা স্পষ্ট হতে আরো সময় লাগবে।
কামারহাটি এবং আশপাশের এলাকা এখন উত্তেজনাপূর্ণ। স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি অমিত পালের মৃত্যু আত্মহত্যা হয়ে থাকে, তবে এর পেছনে কোনো গভীর কারণ থাকতে পারে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মানসিক চাপের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে কিনা, তা জানার জন্য তদন্তে আরো তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।
বাম কর্মীরা এই ঘটনাটিকে এক গভীর সংকট হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, অমিত পালের মতো নেতার মৃত্যু কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে যে কোনো রহস্য রয়েছে তা স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজন।
এই মৃত্যু কামারহাটি ও তার আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতার একটি প্রতিফলন হতে পারে, এবং এর জন্য গভীর তদন্ত জরুরি।