
আজ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (EC On WB Poll 2026) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসারদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে মূলত নির্বাচনে কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
রাজ্যের নির্বাচনী (EC On WB Poll 2026) প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি, বিশেষত ভোটগ্রহণের ধাপ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। জানা গেছে, গতকালই পশ্চিমবঙ্গের Chief Electoral Officer (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল দিল্লি পৌঁছেছেন এই বৈঠকে যোগ দিতে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার আনন্দ কুমারও এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হবে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কত দফায় করা হবে, তার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কত কোম্পানি রাজ্যে মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের পদ্ধতি এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বাহিনীর সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের দফাগুলির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি ভোটগ্রহণ একাধিক দফায় করা হয়, তবে বাহিনীর সংখ্যাও সেই অনুযায়ী বাড়ানো হবে। তবে একাধিক দফায় ভোটগ্রহণ হলে প্রশাসনিক কাজও বৃদ্ধি পাবে, যেমন বুথের নিরাপত্তা, ভোটারদের নিরাপত্তা, এবং ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
এছাড়া, কমিশন সূত্রে খবর, এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ভোটগ্রহণের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৯ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় উপস্থিত ছিল, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু করার জন্য সহায়ক হয়েছিল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরের প্রস্তুতি শুরু করেছে। রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন। নিরাপত্তা, ভোটগ্রহণের পর্ব, নির্বাচনী আচরণবিধি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিতভাবে আলোচনা চলছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো বিশাল রাজ্যে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেই জন্য বৈঠকে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা হবে। এছাড়া, গত নির্বাচনে কিছু অভিযোগ উঠে এসেছিল, যেখানে ভোট কেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতির দাবি ওঠে। সেসব বিষয় মাথায় রেখেই এবার আরও সতর্ক এবং সুসংহত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে।
২০২৬ সালের নির্বাচনে আরও একাধিক নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও উঠেছে। নির্বাচন কমিশন কিছু নতুন আধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কথা ভাবছে, যার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল ঘোষণা আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে করা যাবে। এছাড়া, ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালানো হবে।




