
কলকাতা: তদন্ত করতে এসে উল্টে নিজেরাই আইনি জটে পড়লেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আধিকারিকরা। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারক সংস্থা I-PAC (Indian Political Action Committee)–এ তল্লাশি চালাতে এসে একাধিক ইডি অফিসারের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের করা চারটি FIR ঘিরে এবার বিষয়টি পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। সর্বোচ্চ আদালতকে জানানো হয়েছে, কলকাতার বিভিন্ন থানায় ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ইডি-র তিন আধিকারিক
এই পরিস্থিতিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ইডি-র তিন আধিকারিক, যাঁরা I-PAC তল্লাশির অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই পিটিশনে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের দায়ের করা FIR প্রত্যাহারের আবেদনও জানানো হয়েছে।
ইডি আধিকারিকদের অভিযোগ, তল্লাশি অভিযানের সময় শুধু প্রশাসনিক বাধাই নয়, বরং তদন্ত প্রক্রিয়াকে পরিকল্পিতভাবে ব্যাহত করা হয়েছে। সোমবারই করা আর একটি মামলায় ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের DGP এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার সরাসরি তল্লাশিতে হস্তক্ষেপ করেন। এমনকি অভিযানের সময় ইডি অফিসারদের কাছ থেকে জোর করে নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস কেড়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কেন I-PAC-এ হানা দিয়েছিল ইডি? ED officers FIR Kolkata Police
ইডির দাবি অনুযায়ী, এই তল্লাশি অভিযান কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং কয়লা পাচার ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত একটি বৃহৎ আর্থিক অপরাধের তদন্তের অঙ্গ। ইডির বক্তব্য, এই মামলায় মোট ২,৭৪২.৩২ কোটি টাকার অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।
সংস্থার অভিযোগ, হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে ২০ কোটিরও বেশি টাকা I-PAC-এ পাঠানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই I-PAC ও তার শীর্ষ কর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি চালানো হয়।
কেন CBI তদন্ত চাইছে ইডি?
I-PAC কর্তা প্রতীক জৈন–এর বাড়ি এবং আরও দুটি জায়গায় তল্লাশি চালাতে গিয়ে বারবার বাধার মুখে পড়ে ইডি। সংস্থার দাবি, এই বাধা শুধুমাত্র স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকেই তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
এই কারণেই ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী, DGP, কলকাতা পুলিশ কমিশনার-সহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক ও ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে CBI তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সুপ্রিম কোর্টের কাছে ইডির কী দাবি?
সর্বোচ্চ আদালতের কাছে ইডির মূল দাবি তিনটি—
ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া FIR অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক৷
রাজ্য সরকার বা রাজ্য পুলিশের তরফে ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া হোক৷
তল্লাশির সময় বাজেয়াপ্ত ডিজিটাল প্রমাণ ও নথিপত্র সিল করে নিরাপদে সংরক্ষণ করা হোক৷










