বনগাঁ: ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে ফের অশান্তির আঁচ। এবার খোদ বিধায়কের হাত থেকে ফর্ম ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার বনগাঁ উত্তর এসডিও (SDO) অফিসের সামনে বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার হাত থেকে ‘ফর্ম সেভেন’ কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
ঠিক কী ঘটেছে?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ‘ফর্ম সেভেন’ পূরণ করা হয়। সোমবার দুপুরে বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া বেশ কিছু ফর্ম সেভেন জমা দিতে এসডিও অফিসে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তাঁর পথ আটকান এবং জোরপূর্বক তাঁর হাত থেকে ফর্মগুলো ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এই ঘটনার পরেই দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ bongaon sdo office tension
ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “বিজেপি হাজার হাজার ফর্ম সেভেন জমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। হাজার হাজার ফর্ম ছাপানো হচ্ছে কিছু একটা করার জন্য। এতেই মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে।” অন্যদিকে, তৃণমূল কর্মীদের দাবি, সাধারণ মানুষই ক্ষুব্ধ হয়ে ফর্ম ছিঁড়ে দিয়েছে। তবে বিজেপির অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নাম সংশোধনের কাজে সরাসরি বাধা দিচ্ছে শাসকদল। জনৈক বিক্ষোভকারী তৃণমূল কর্মীর হুঙ্কার, “যতদিন পশ্চিমবঙ্গে একটা ফর্ম সেভেন বাকি থাকবে, ততদিন আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
অভিষেকের বার্তার প্রভাব?
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ৪৮ ঘণ্টা আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘ডিজে’ শোনানোর যে দাওয়াই দিয়েছিলেন, তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জেলাগুলোতে। সেই বার্তার পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘ফর্ম সেভেন’ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। বনগাঁর এই ঘটনা সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
বর্তমানে এসডিও অফিসের সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
