
যত দিন যাচ্ছে, ততই বুথ লেভেল অফিসার (BLO) দের উপর কাজের চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বের পাশাপাশি একের পর এক অতিরিক্ত কাজBLOচাপিয়ে দেওয়ায় কার্যত চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন তাঁরা। BLO-দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক SIR সংক্রান্ত কাজে মাঠে নামতে গিয়ে তাঁদের নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আর নীরব না থেকে গণ ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন BLO কর্মীরা।
BLO-দের দাবি, মূলত ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমানে সেই কাজের পরিমাণ এতটাই বেড়েছে যে নিয়মিত স্কুল বা দপ্তরের কাজ সামলানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাঠে ঘুরে ভোটার যাচাই, নতুন নাম সংযোজন, বাদ পড়া নাম সংশোধন—সব মিলিয়ে মানসিক ও শারীরিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে সপ্তাহান্তেও ছুটি মিলছে না বলে অভিযোগ।
বিশেষ করে SIR-এর কাজে গিয়ে BLO-দের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কোথাও ভোটারদের অসহযোগিতা, কোথাও আবার অযথা সন্দেহের চোখে দেখা—সব মিলিয়ে কাজ করতে গিয়ে অপমানিত হতে হচ্ছে বলেই অভিযোগ। BLO-দের একাংশের দাবি, অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষ তাঁদের সরকারি কর্মী হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন, যার ফলে কথা-কাটাকাটি থেকে শুরু করে হেনস্তার ঘটনাও ঘটছে।
এই অবস্থায় মঙ্গলবার একযোগে BDO অফিসে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন BLO-রা। স্মারকলিপিতে তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, অবিলম্বে কাজের চাপ না কমানো হলে এবং BLO-দের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত না করা হলে তাঁরা গণ ইস্তফার পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। স্মারকলিপিতে SIR সংক্রান্ত কাজের সময়সীমা বাস্তবসম্মত করা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে। BLO-দের বক্তব্য, তাঁরা কখনও দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করতে চান না। কিন্তু সীমাহীন কাজের চাপ ও পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে কাজের মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন BLO-রা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, তেমনই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অনেক BLO-র মতে, ক্লান্ত শরীর ও চাপে থাকা মন নিয়ে নির্ভুল কাজ করা সম্ভব নয়।
BLO সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, দাবি মানা না হলে তাঁরা পরবর্তী পর্যায়ে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন। গণ ইস্তফা শুধু হুঁশিয়ারি নয়, প্রয়োজনে তা বাস্তবেও কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, BLO-রা সরকারি ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেও দিনের পর দিন অবহেলিত থেকে যাচ্ছেন।









