কলকাতা: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বড় জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। শুনানি কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ-দের (BLA) প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিল না নির্বাচন কমিশন। সোমবার সেই আপত্তিতে জল ঢেলে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল, এখন থেকে শুনানির সময় বিএলএ-রা কেবল উপস্থিতই থাকতে পারবেন না, বরং ভোটারের হয়ে সওয়ালও করতে পারবেন।
সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ
তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। আদালত জানিয়েছে, যে সব ভোটার শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন, তাঁরা নিজের পক্ষে কথা বলার জন্য আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী কিংবা সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলএ-র সাহায্য নিতে পারেন। তবে এর জন্য ভোটারকে একটি স্বাক্ষর করা বা টিপসই দেওয়া ‘অথরাইজেশন লেটার’ বা অনুমতিপত্র দিতে হবে। এই চিঠি থাকলে ভোটার নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে বিএলএ সওয়াল করতে পারবেন।
“কোর্টে হারিয়েছি, ভোটেও হারাব”: হুঙ্কার অভিষেকের blas can present at present
শীর্ষ আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল শিবিরে খুশির হাওয়া। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটেও হারাব।” আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “বিএলএ-দের প্রবেশ নিয়ে কমিশনের অনেক আপত্তি ছিল, কিন্তু কোর্ট স্পষ্ট করে দিল যে কোনো ভোটার চাইলেই অন্যের সাহায্য নিতে পারেন।”
পাল্টা তোপ বিজেপির
তৃণমূল এই রায়কে ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দাবি করলেও তা মানতে নারাজ বিজেপি। বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “তৃণমূল গণতন্ত্রের কথা বলছে, অথচ আজও আমাদের ফর্ম-৭ ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। যেখানে গণতন্ত্রই নেই, সেখানে নৈতিক .০জয়ের প্রশ্ন ওঠে না।” বিজেপির দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ ভোটের সার্থকতা নেই।
আগামী দু’সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের ফলে ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া নিয়ে যে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি চলছিল, তা নতুন মাত্রা পেল।
