
প্রায় দুই দশক আগে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলি নদীর পূর্বতটের উর্বর সিঙ্গুরের জমিতে হাঁটলেন, পরিশ্রম করলেন এবং শিবির করেছিলেন। কলকাতা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে এই সিঙ্গুরের জমি তখন ছিল কৃত্রিম শিল্পায়নের কেন্দ্রবিন্দু। ২০০৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে টাটা ন্যানো প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন চালান। (BJP) এই আন্দোলন তাকে কেবল পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়নি, বরং তৎকালীন সিপিআই(এম) সরকারের পতনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ওই আন্দোলনের পর টাটা ন্যানো প্ল্যান্টকে সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে গুজরাতের সানন্দে স্থানান্তর করতে হয়।
কিন্তু প্রায় ১৮ বছর পর, এবং ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে, সিঙ্গুরের উর্বর জমি আবার রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। এবার এই জমিকে নির্বাচনী মঞ্চে পরিণত করেছে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদী(BJP) নেতৃত্বাধীন বিজেপি সিঙ্গুরকে একটি রাজনৈতিক যুদ্ধে ব্যবহার করছে। তারা সিঙ্গুরকে উপস্থাপন করছে যেন এটি একটি ‘মিসড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সুযোগ’ হয়ে গেছে। টাটা ন্যানো প্ল্যান্টের দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থাকে পুনরায় সামনে আনা হচ্ছে, এবং মমতার অতীত আন্দোলনকে এখন প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে।(BJP) বিজেপি বলছে, মমতার আন্দোলনের কারণে রাজ্য শিল্পায়নের একটি বড় সুযোগ হারিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিজেপির (BJP) এই কৌশল মূলত ভোট ও জনমত প্রভাবিত করার লক্ষ্য নিয়ে চালানো হচ্ছে। বিজেপি চেষ্টা করছে সিঙ্গুরের ‘মিসড অপারচুনিটি’ ইস্যুকে তুলে ধরে মমতার শিল্প ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে জনমতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করছে। তৃণমূলের দাবি, সিঙ্গুর আন্দোলন ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলন। তারা বলছে, জমি অধিগ্রহণের পেছনে যথাযথ পরামর্শ বা সম্মতি ছাড়া প্রকল্প চালানো হলে সাধারণ কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। সুতরাং আন্দোলন ছিল ন্যায়সঙ্গত এবং জনগণের স্বার্থে।










