
কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের ১ নম্বর এজলাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে সওয়াল করার ঘটনাকে কড়া ভাষায় বিঁধল বিজেপি। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী আদতে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ বা SIR প্রক্রিয়াটি বন্ধ করতে চাইছেন এবং আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দায় থেকে বাঁচতেই সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করার ‘নাটক’ করছেন।
‘পদবি বিভ্রাট নয়, সবই চক্রান্ত’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে, নামের বানানে ভুলের জন্য সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। এর পালটা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পদবি বদল হয়ে যাওয়ার যে দাবি করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। তৃণমূল কংগ্রেস অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নামের তালিকায় গণ্ডগোল করছে। এর ফলে বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী আসলে চাইছেনই না যে SIR চলুক, তাই পুরো প্রশাসনকে এই প্রক্রিয়া রুখতে কাজে লাগিয়েছেন।”
আনন্দপুর কাণ্ড থেকে নজর ঘোরানোর অভিযোগ BJP slams Mamata
শমীকের আক্রমণের তিরে উঠে আসে আনন্দপুরের গুদাম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা (যা গত ২৬ জানুয়ারি ঘটেছিল)। তিনি বলেন, “আনন্দপুরের ঘটনায় ২৭ জন মারা গিয়েছেন, এখনও অনেকে নিখোঁজ। নবান্ন থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটলেও মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাওয়ার সময় পাননি। কিন্তু ১৫০০ কিমি পথ পেরিয়ে ঠিকই দিল্লি পৌঁছে গেলেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বুঝে গেছেন এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে আর চলতে দেওয়া যায় না।”
২০০৫ বনাম ২০২৬: মমতার পুরনো অবস্থান মনে করাল বিজেপি
বিজেপি রাজ্য সভাপতির দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই কেন অশান্তি হচ্ছে? তিনি মুখ্যমন্ত্রীর অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০০৫ সালের ৪ আগস্ট তৎকালীন সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের টেবিলে কাগজ ছুড়ে বলেছিলেন যে, ভোটার তালিকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরা। যিনি ২০০৫ সালে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন, আজ তিনিই কেন অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের তালিকাভুক্ত রাখতে SIR-এর বিরোধিতা করছেন?
সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ: ‘রাজনৈতিক সওয়াল’
অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারও মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি দাবি করেন, স্রেফ ৫ মিনিটের ভাষণ দেওয়ার জন্যই তিনি সেখানে গিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের একমাত্র লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও ভুয়ো ভোটারদের তালিকায় টিকিয়ে রাখা, আর সেই কারণেই বিএলও-দের ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।













