
কলকাতা: সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিয়োনেল মেসির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা ও তাণ্ডবের ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল বিজেপি। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, পুলিশ যে সকল দর্শককে গ্রেফতার করেছে, তাঁদের সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা দেবে বিজেপি।
ধৃতদের লিগাল সাপোর্ট দেবে বিজেপি
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ধৃতদের সম্পূর্ণ লিগাল সাপোর্ট দেবে বিজেপি। আমাদের আইনজীবীরা এই তথাকথিত ভুয়ো এফআইআরগুলিতে স্থগিতাদেশ চাইবেন। জামিন করানো থেকে শুরু করে আইনি লড়াই—সব দিকেই পাশে থাকবে বিজেপি। আমরা ইতিমধ্যে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যেসব দর্শক গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা কোনও অপরাধ করেননি। তারা টিকিট কিনে বৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করেন, উচ্চ শিক্ষিত। অথচ যাঁরা এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি করেছেন, তাঁদের কোনও ব্যবস্থা হয়নি। ২৫ কোটি টাকা এডভ্যান্স কে করেছে? এতে পুরো দল যুক্ত।”
যুবভারতী কাণ্ডে নতুন গ্রেফতারি
ঘটনার পরিদর্শন ও তদন্তে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম রূপক মণ্ডল, যিনি চিংড়িঘাটা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে তাঁকে শনাক্ত করেছে। এর ফলে যুবভারতী কাণ্ডে গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে ছয়।
সেটি ছাড়া, বুধবার সকালে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চারজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা মাঠ এবং গ্যালারিতে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
মেসির কলকাতা সফর ও যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা
গত শনিবার সল্টলেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসি, সুয়ারেজ় ও দে পলকে দেখতে আসা দর্শকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অভিযোগ, চড়া দামে টিকিট কিনলেও অনেক দর্শক মেসিকে সঠিকভাবে দেখতে পাননি। গ্যালারিতে ২০ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হারায়।
দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে হোর্ডিং ছিঁড়ে ফেলে, চেয়ার ভাঙচুর করে, মাঠে বোতল ছুঁড়ে দিচ্ছে। শেষে ফেন্সিং ভেঙে জনতা মাঠে নেমে আসে। এই ঘটনার পর বিধাননগর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
যুবভারতী কাণ্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতেও চাপানউতোর তীব্র আকার নিয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরের দিকে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।










