বীরভূমের রাস্তা যেন পাচার করিডোর! অভিযানে বালি-কয়লা-গরু ধরল পুলিশ

Birbhum Roads Smuggling Corridor

বীরভূমের (Birbhum) জাতীয় সড়ক (Roads) এখন যেন পাচারের (Smuggling) করিডোরে (Corridor) পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে পুলিশের (Police) বিশেষ অভিযানে একে একে ধরা পড়ে অবৈধ (Illegal) মাল পাচারের ঘটনা। ইলামবাজার থেকে সিউড়ি ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালায়, আর তাতেই বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ সব তথ্য। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সড়ক দিয়ে অবৈধ কয়লা, বালি, গরু পাচার হচ্ছিল।

এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ডিএসপি স্বপন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। বিশেষভাবে পরিকল্পনা করে পুলিশ এই অভিযান চালিয়েছিল। পুলিশের গাড়ি বদলে সাধারণ গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে পাচারকারীরা আগেভাগে খবর না পেয়ে পালিয়ে না যেতে পারে। এই কৌশল কার্যকরও হয়, কারণ প্রথমেই ধরা পড়ে গরুবোঝাই পিকআপ ভ্যান। এই পিকআপ ভ্যানে ছিল ১৩টি গরু। এগুলি বর্ধমান থেকে জয়দেব মোড় হয়ে আসছিল। পুলিশ পাঁচজন পাচারকারীকে আটক করে।

   

এরপর হেতমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ কুইন্টাল কয়লা জব্দ করা হয়। মোটর বাইকে করে কয়লা পাচার হচ্ছিল। পুলিশ ওই কয়লা দুবরাজপুর থানার হাতে তুলে দেয়। এরই মধ্যে, এক পাচারকারী পালিয়ে গেলেও আরেকজনকে পেট্রোল পাম্পের কাছে ধরা পড়ে।

সদাইপুর থানার বাঁধেরশোল মোড়ে দুটি ট্রাক আটক করা হয়, যেগুলি বালি বোঝাই ছিল। ট্রাক দুটি মুর্শিদাবাদের দিকে যাচ্ছিল। একে একে এই পাচারকারীদের গ্রেফতার করা হয়। এমনকি, সিউড়ি থানার মিনিস্টিলের কাছে ২৬টি গরু বোঝাই পিকআপ ভ্যান আটক করা হয়, যা বাঁকুড়া থেকে চালান ছাড়া মুর্শিদাবাদের দিকে যাচ্ছিল।

ডিএসপি স্বপন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে প্রতিরাতে নিয়মিত অভিযান চলে। তবে, পাচারকারীরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে, তা দেখে পুলিশ স্তম্ভিত। তিনি আরও জানান, “এখন আমরা আরও বড় অভিযানে নামব, যাতে অবৈধ গরু, বালি, কয়লা পাচারের সঙ্গে জড়িত সকল দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা যায়। এই অভিযান আরও জোরদার হবে।”

পুলিশের এই অভিযান প্রমাণ করে যে, বীরভূমে অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখনই থামছে না পুলিশ, বরং আরও শক্তিশালী অভিযান চালানো হবে যাতে পাচারকারীদের রুখে দেওয়া যায়।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন