বাঁকুড়া জেলার উন্নয়ন এবং মেধা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে তার শীর্ষস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জনসভায় শুরুতেই প্রসংশা করলেন। বাঁকুড়ার মাটি যে সত্যিই গর্বের, সেটা তিনি বারবার বলেছেন, এবং আবারও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই গর্বের কথা। তিনি বলেন, “শিক্ষায়-মেধায় এক নম্বরে বাঁকুড়া। জেলার মাটি থেকেই শহরে যান বড় বড় ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়াররা। গ্রাম থেকেই মানুষ হয়েই আমরা শহরে যাই।” তাঁর এই মন্তব্যে বাঁকুড়ার শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের বিষয়টি আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।
মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, বাঁকুড়ার মাটি শুধু যে গর্বের, তা নয়, এখানকার মানুষের মেধা এবং শিক্ষার মানও আজ সারা রাজ্যে আলোচিত। এক সময় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহরগুলিতে বসবাস করা বহু মানুষ বাঁকুড়ার মাটির সন্তান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে— চিকিৎসা, প্রকৌশল, ব্যবসা, শিক্ষা— তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাঁকুড়ার সন্তানরা শুধু রাজ্য নয়, দেশের অন্যত্রও নিজেদের প্রতিভা ও মেধার ছাপ রেখেছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কখনোই নিজেদের গ্রামের প্রতি লজ্জিত হইনি। বরং, আমাদের গ্রাম থেকে আমরা সোজা শহরে পৌঁছেছি। বাঁকুড়া এখন আর কোনো পিছিয়ে পড়া অঞ্চল নয়, এটা এখন শিক্ষার মেলা, মেধার অঙ্গন।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের প্রতিটি গ্রামকে শহরের সঙ্গে সমান গুরুত্বের জায়গায় দাঁড় করানোর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে শহর এবং গ্রামের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে এনে প্রত্যেক এলাকার উন্নয়ন করা।
মুখ্যমন্ত্রী বাঁকুড়া জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার মানের উন্নতি নিয়ে বলেন, “বাঁকুড়ার শিক্ষার মান উন্নত হয়েছে, এবং এখন রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বাঁকুড়া শীর্ষে রয়েছে। এখানকার ছাত্রছাত্রীরা আজ পশ্চিমবঙ্গের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করছে এবং অন্যান্য রাজ্যে তাদের পরিচিতি রয়েছে।” তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ বাঁকুড়ার শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামগুলোও এখানে যথেষ্ট সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বাঁকুড়ার মানুষের মেধা কেবলমাত্র শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও চমকপ্রদ অবদান রেখেছে। রাজ্য সরকার এ পর্যন্ত বিভিন্ন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করেছে, যাতে তারা আরও ভালো শিক্ষা অর্জন করতে পারে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের প্রতিভার প্রদর্শন করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীবলেন, “আমাদের সরকার প্রতিটি জেলার উন্নতি করার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। রাজ্যের উন্নয়ন কখনোই একমাত্র শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, গ্রামের উন্নয়নও equally গুরুত্বপূর্ণ। বাঁকুড়া এবং অন্যান্য জেলার উন্নতি আমাদের প্রথম লক্ষ্য।”
তিনি জেলা সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “বাঁকুড়া আজ শুধু শহরের উন্নয়ন নয়, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সামাজিক খাতে উন্নতির উদাহরণও হয়ে উঠেছে। আমি আশা করি, এই ধরনের পরিবর্তন রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।” মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বাঁকুড়া জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ও অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির সাফল্য, এবং তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সাফল্যের কথা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে এবং রাজ্যের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
জনসভা শেষে তিনি বাঁকুড়া জেলার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, “এখানকার মানুষরা যে কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা অন্যান্য জেলাগুলোর জন্য উদাহরণ।” তিনি আরও বলেন, “যতদিন আমাদের সরকার থাকবে, ততদিন আমরা বাঁকুড়া জেলার উন্নয়নকে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করে যাব। বাঁকুড়ার জন্য আমাদের সরকার সারা বছর খোলা থাকবে।”
