“Democracy is Absent in Bengal under Didi’s Rule: Explosive Remarks by Sambit Patra in SSC Context”
ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) জাতীয় মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র’ (sambit patra) গতকাল একটি প্রেস কনফারেন্সে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ তুলে বলেছেন, “বাংলায় দিদির দাদাগিরি সবাই দেখছে। এই রাজ্যে গণতন্ত্রের কোনও জায়গা নেই।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
প্রেস কনফারেন্সে সম্বিৎ পাত্র (sambit patra) দাবি করেছেন
প্রেস কনফারেন্সে সম্বিৎ পাত্র দাবি (sambit patra) করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূল সরকারের শাসনকালে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ ভোট দিতে গেলে ভয় পায়। তৃণমূলের গুন্ডারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে, বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এটা কি গণতন্ত্র? এটা তো দাদাগিরি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। বিশেষত গতকালের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরেই এই সাংবাদিক বৈঠক করেন সম্বিৎ।
জামশেদপুরে সমর্থক প্রহৃত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাল বাগান শিবির
সম্বিৎ পাত্র বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন
সম্বিৎ পাত্র (sambit patra) বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে বাংলায় ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা এবং তার সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতিতে চাকরি হারানোর দায় নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “বিজেপির কর্মীদের ওপর হামলা, খুন, এমনকি তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ক্রমাগত ঘটছে। এই সবের পিছনে তৃণমূলের সমর্থন রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দাদাগিরির মাধ্যমে রাজ্যে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চান।” তিনি দাবি করেন যে, এই পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বারবার রাজ্য সরকারের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে, কিন্তু কোনও ফল হয়নি।
প্রেস কনফারেন্সে তিনি আরও বলেন, “বাংলার মানুষ এখন আর এই দাদাগিরি মেনে নিতে চায় না। তারা পরিবর্তন চায়। বিজেপি বাংলার মানুষের পাশে আছে এবং আমরা এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।” তিনি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন যে, বাংলার জনগণ তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাদের রায় দেবে এবং বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া
সম্বিৎ পাত্রর এই বক্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। তৃণমূলের একজন মুখপাত্র বলেন, “সম্বিৎ পাত্র বাংলার মানুষকে অপমান করছেন। তিনি এখানকার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। বিজেপি বাংলায় পা রাখতে পারছে না বলে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।” তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মানুষের জন্য কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিত পাত্রার এই মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “বিজেপি বাংলায় তাদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে। এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে চাইছে। তবে বাংলার মানুষ এই অভিযোগ কতটা গ্রহণ করবে, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর।”
সম্বিৎ পাত্র তাঁর বক্তব্যে বাংলার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যে বেকারত্ব বাড়ছে, শিল্প নেই, কৃষকরা দুর্দশার মধ্যে রয়েছে। তৃণমূল সরকার শুধু দাদাগিরি করে ক্ষমতায় থাকতে চায়, কিন্তু মানুষের জন্য কিছু করে না।” তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে এই রাজ্যে উন্নয়নের জোয়ার আনবে।”
এদিকে, তৃণমূলের নেতারা সম্বিৎ পাত্রর এই মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক নোংরামি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। একজন তৃণমূল নেতা বলেন, “বিজেপি যখনই বাংলায় আসে, তখনই এই ধরনের অভিযোগ তোলে। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।” তিনি দাবি করেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোর ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।
সম্বিৎ পাত্রর এই বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিজেপি সমর্থকরা তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে সরব হয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূল সমর্থকরা এটিকে ‘মিথ্যার বান্ডিল’ বলে সমালোচনা করেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “বাংলায় দাদাগিরি যদি কেউ করে, তবে তা বিজেপি।
তারা এখানে জোর করে পা গলাতে চায়।” অন্য একজন লিখেছেন, “সংবিত পাত্রা ঠিকই বলেছেন। বাংলায় গণতন্ত্র বিপন্ন।”এই ঘটনার পর বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে শাসক-বিরোধী সংঘাত তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার জন্য রাজনৈতিক মহল মুখিয়ে রয়েছে।