বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী যৌনকর্মীর সঙ্গে প্রেম! গ্রেফতার আসানসোলের যুবক

asansol-youth-arrested-bangladeshi-infiltrator-fake-documents-love-affair

আসানসোল: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi infiltrator) এক যৌনকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হল আসানসোলের এক যুবক। ধৃত যুবকের নাম ছোটন সেন। তিনি সালানপুর থানার দেন্দুয়া এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা শিল্পাঞ্চলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি ওই মহিলার নাম ময়না। তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং বর্তমানে নিয়ামতপুরের একটি যৌনপল্লী এলাকায় বসবাস করছিলেন।

Advertisements

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, নিয়ামতপুরের ওই নিষিদ্ধপল্লীতে থাকার সময়ই ছোটন সেনের সঙ্গে ময়নার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়। অভিযোগ, এই প্রেমের সম্পর্কের জেরেই ছোটন সেন ময়নাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার জন্য একের পর এক ভুয়ো নথি তৈরি করতে সাহায্য করে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড থেকে শুরু করে পাসপোর্ট—সবকিছুই বানিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা ছিল ছোটনের।

   

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, ময়নার বিভিন্ন নথিতে বাবা-মা হিসেবে ছোটন সেনের কাকা ও কাকিমার নাম ব্যবহার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এইভাবে ময়নাকে একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছিল। এমনকি এই ভুয়ো নথির জোরেই ময়না পাসপোর্টও পেয়ে যায়। তবে পাসপোর্ট তৈরির সময় পুলিশের ভেরিফিকেশনে গিয়ে পুরো বিষয়টি সামনে আসে। যাচাই প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হয় যে ময়না আদতে বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ছোটন সেন শুধু ভারতে থেকেই এই কাজ করেননি। তিনি ময়নার সঙ্গে একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে ময়নার মামার বাড়িতে যাওয়ার তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। এর ফলে বিষয়টি আরও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। পুলিশের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াত এবং ভুয়ো নথি তৈরির পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এদিকে, যাঁর নাম নথিতে ময়নার বাবা হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেই উৎপল সেন—ছোটন সেনের কাকা—এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার কোনও মেয়ে নেই, আমার শুধু দু’টি ছেলে রয়েছে। কে বা কেন আমার নাম ব্যবহার করেছে, তা আমার অজানা।” তাঁর এই বক্তব্যের পরেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।

গোটা ঘটনায় বিদেশি নাগরিককে দেশি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, জাল নথি তৈরি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক ধারায় ছোটন সেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার ধৃতকে আসানসোল আদালতে তোলা হয়। পুলিশ আদালতের কাছে ধৃতের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার আবেদন জানিয়েছে, যাতে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়।

এই ঘটনা আবারও অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো নথি তৈরির মতো গুরুতর সমস্যার দিকে নজর ফেরাল। সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়, তবে প্রতিবারই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ময়নাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

সব মিলিয়ে, প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে কীভাবে একটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছিল, তা প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসন যেমন সতর্ক হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়েছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও ঢিলেমি করা হবে না এবং প্রয়োজনে বড়সড় চক্রের পর্দাফাঁস করা হবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements