অস্ত্রসহ ধরা পড়ল ২ সন্দেহভাজন দুষ্কৃতি

স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: কাঁথির গিমাগেড়িয়া হাই মাদ্রাসার কাছে বৃহস্পতিবার রাতে তৎপর এলাকাবাসীর সৌজন্যে ধরা পড়ল দুই সশস্ত্র (Arm) দুষ্কৃতি। রাত প্রায় সোয়া দশটা নাগাদ স্থানীয়দের…

অস্ত্রসহ ধরা পড়ল ২ সন্দেহভাজন দুষ্কৃতি

স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: কাঁথির গিমাগেড়িয়া হাই মাদ্রাসার কাছে বৃহস্পতিবার রাতে তৎপর এলাকাবাসীর সৌজন্যে ধরা পড়ল দুই সশস্ত্র (Arm) দুষ্কৃতি। রাত প্রায় সোয়া দশটা নাগাদ স্থানীয়দের নজরে আসে দুই অচেনা যুবক, যাদের গতিবিধি অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে হয়।

Advertisements

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দু’জন দীর্ঘক্ষণ ধরে মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। কখনও ফোনে কথা বলা, কখনও আশপাশের বাড়ির দিকে নজর রাখা—এসব দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে তাদের লক্ষ্য করেন। এরপর কয়েকজন যুবক একত্রিত হয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেন এবং সরাসরি প্রশ্ন করতে শুরু করেন।

   

প্রথমে তারা তালবাহানা করার চেষ্টা করলেও, গ্রামবাসীদের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ে যায়। সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালাতেই একে একে উদ্ধার হয় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরি, কিছু বুলেট ও প্রচুর পরিমাণে নগদ টাকা। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।

স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গেই কাঁথি থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন হেঁড়িয়ার বাসিন্দা এবং অপরজন ওড়িশার বাসিন্দা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে তারা কী কারণে গিমাগেড়িয়া এলাকায় এসেছিল, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, বা কোনও নির্দিষ্ট অপরাধমূলক পরিকল্পনা ছিল কি না—তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং তাদের মোবাইল ফোন, উদ্ধার হওয়া টাকা ও অস্ত্রের সূত্র ধরে বৃহত্তর চক্রের খোঁজ চলছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেও কয়েকটি থানায় মামলা রয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাত থেকেই মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি ভূমিকার প্রশংসা করলেও, পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন—এই ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি রুখতে নিয়মিত টহল বাড়ানো হোক।

এদিকে কাঁথি থানার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে এটা একটা বড়সড় অপরাধচক্রের অংশ বলেই মনে হচ্ছে। আমরা সব দিক খতিয়ে দেখছি, খুব শীঘ্রই এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও ধরতে পারব বলে আশা করছি।”

এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণ হল, সচেতন নাগরিক এবং পুলিশের মিলিত প্রচেষ্টাতেই রোখা সম্ভব নানা রকমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। গিমাগেড়িয়ার সাধারণ মানুষের এই ভূমিকা ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রশংসিত হয়েছে।

Advertisements