কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি লিখে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে চলা বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরেছেন। চিঠিতে তিনি গভীর উদ্বেগ ও বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে, নিয়মিতভাবে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র ভাষা ও পরিচয়ের কারণে এই শ্রমিকরা প্রশাসনিক অবহেলার শিকার হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে পড়ছেন।
অধীর চৌধুরী চিঠিতে লেখেন, প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশের একটি অংশ ‘বাংলাভাষী’ এবং ‘বাংলাদেশি’—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর ফলে কোনও অপরাধ না করেও বহু পরিযায়ী শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, জেলে বা ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে। তিনি এটিকে চরম অন্যায় এবং অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, ভারতের নাগরিক হয়েও শুধুমাত্র ভাষাগত পরিচয়ের কারণে এভাবে হেনস্তা হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
চিঠিতে ওডিশার সাম্বলপুরে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার উল্লেখ করেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি জানান, তাঁর লোকসভা কেন্দ্র মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা এক যুবক জুয়েল শেখকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং পরিযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিদ্বেষ ও ভুল ধারণার ভয়াবহ পরিণতি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে বিভ্রান্তিকর ধারণা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবন পর্যন্ত কেড়ে নিতে পারে।
অধীর চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী হিসেবে কাজ করেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। নির্মাণ, কারখানা, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহণ ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর ক্ষেত্রে এই শ্রমিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ সেই শ্রমিকরাই আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অহেতুক সন্দেহের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের আচরণ শ্রমিকদের মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অধীর রঞ্জন চৌধুরী আবেদন জানান, যেন কেন্দ্র সরকার সমস্ত রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে সংবেদনশীল করে তোলে। তিনি চান, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হোক, যাতে কোনও নাগরিককে ভাষা, পোশাক বা আঞ্চলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে হয়রানি না করা হয়। একই সঙ্গে তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলেন।
অধীরের মতে, ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান মর্যাদা ও সুরক্ষা দিতে হবে। এক রাজ্যের মানুষ অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেলে তাঁদের ভিনদেশি হিসেবে দেখা হলে তা জাতীয় সংহতির পক্ষে ক্ষতিকর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী এই গুরুতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
