আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন জ্ঞানেশ কুমার, দাবি অভিষেকের

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে এবার মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একটি সর্বদলীয় বৈঠককে কেন্দ্র করে…

TMC MPs Dragged Away from Home Ministry Office: Abhishek Banerjee Expresses Outrage"

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে এবার মারাত্মক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একটি সর্বদলীয় বৈঠককে কেন্দ্র করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে সরব হন তিনি। অভিষেকের দাবি, বৈঠকে তোলা প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পেরে নির্বাচন কমিশনার মেজাজ হারিয়ে তাঁর দিকে আঙুল তুলে কথা বলেন, যা সম্পূর্ণ অশোভন ও গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারবিরোধী।

Advertisements

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৈঠকের সময় তাঁরা নির্বাচন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্নগুলির স্পষ্ট ও যুক্তিসঙ্গত উত্তর দিতে ব্যর্থ হন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেই পরিস্থিতিতেই আচমকা উত্তেজিত হয়ে তিনি অভিষেকের দিকে আঙুল তুলে কথা বলতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। এই আচরণে তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল সাংসদ।

   

অভিষেক জানান, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারকে পাল্টা বলেন, “আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। আমি জনতার দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধি, মনোনীত কেউ নই।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন। অভিষেকের মতে, একজন সাংবিধানিক পদাধিকারীর কাছ থেকে এমন আচরণ কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।

এই ঘটনার পর আরও একধাপ এগিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, যদি নির্বাচন কমিশনের কোনও ভয় বা লুকোছাপা না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বৈঠকের সম্পূর্ণ ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। তাঁর কথায়, “সাহস থাকলে আজকের বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ জনসমক্ষে আনা হোক। তাহলে মানুষ নিজেরাই বিচার করবেন কে কী ভাষায় কথা বলেছেন এবং কার আচরণ কতটা শালীন ছিল।”

অভিষেক আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনও ভাবেই রাজনৈতিক দলগুলির ওপর কর্তৃত্ব ফলাতে পারে না। “এরা আঙুল তুলে যা বলবে, তা আমরা মাথা পেতে নেব—এই মনোভাব আমরা মানি না। আমরা কি বন্ডেড লেবার? আমরা কি ক্রীতদাস?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং আচরণ নিয়েই প্রশ্ন তুলতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেকের মতে, গণতন্ত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেই গুরুত্ব কখনওই জনপ্রতিনিধিদের অপমান করার লাইসেন্স হতে পারে না। তিনি মনে করেন, কমিশনের কাজ হওয়া উচিত সব পক্ষের কথা শোনা এবং সংবিধানের গণ্ডির মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করা। এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের আচরণের নিন্দা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, বারবার বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব ধরা পড়ছে এবং এই ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ।

 

Advertisements