
নন্দীগ্রাম বিধানসভা জুড়ে হঠাৎই চোখে পড়ল অস্বস্তিকর পোস্টার, তাতে বড় অক্ষরে লেখা, “নিখোঁজ, সন্ধান চাই”। নাম একটাই-নন্দীগ্রামের নির্বাচিত সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। লোকসভা নির্বাচন ২০২৪–এর পর দীর্ঘদিন এলাকায় তাঁকে দেখা যাচ্ছে না, এই অভিযোগকে সামনে রেখেই এই পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
‘সন্ধান চাই’ পোস্টার
নন্দীগ্রাম ৪ নম্বর অঞ্চল থেকে শুরু করে ভেকুটিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত, দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, সামসাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েত, একাধিক এলাকায় ‘সন্ধান চাই’ পোস্টার পড়েছে। পোস্টারগুলিতে সাংসদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কার্যত কটাক্ষ করা হয়েছে।
এই পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের তরফে শেখ সামসুল ইসলাম দাবি করেছেন, এই পোস্টারের নেপথ্যে রয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দল থেকেই এই ধরনের পোস্টার পড়ানো হয়েছে।
বিজেপি’র পাল্টা দাবি Abhijit Gangopadhyay Missing Posters
তবে তৃণমূলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সুদীপ দাস পাল্টা দাবি করেন, এটি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার জ্বলন্ত উদাহরণ। তাঁর বক্তব্য, “পোস্টার পড়লে তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই পড়া উচিত, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নামে নয়। অভিজিৎবাবু নিয়মিত নন্দীগ্রামে আসেন। অথচ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে হারার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পরিবারের কেউ একবারও এখানে আসেননি।”
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাংসদকে ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে শাসক দল। একই সঙ্গে তাঁরা তৃণমূলকে রাজনৈতিক নাটক করার অভিযোগে বিদ্ধ করেছেন।
‘নিখোঁজ’ পোস্টার বিতর্কে নতুন মোড়
এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সারাদিন নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকাতেই থাকবেন সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ফলে ‘নিখোঁজ’ পোস্টার ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড় আসতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে পোস্টার-যুদ্ধ নতুন নয়, তবে লোকসভা নির্বাচনের পর এই ‘সন্ধান চাই’ পোস্টার যে আগামী দিনে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়াবে, তা এখন থেকেই স্পষ্ট।










