প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা, বিরোধী দলনেতার বুথে কত জনের নাম বাদ?

58 Lakh Voter Deletion SIR Process

আজ প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গের পূর্ণাঙ্গ খসড়া ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশনের এই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার পর তৈরি হওয়া খসড়া তালিকায় রাজ্যজুড়ে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এত বড় সংখ্যায় নাম ছাঁটাইয়ের খবরে স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ ও কৌতূহল— দুইই বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বুথে কত জনের নাম বাদ গেল? পাশাপাশি নজর রয়েছে বিরোধী দলনেতার বুথের দিকেও। ইতিমধ্যেই সেই সংক্রান্ত তথ্য সামনে এসেছে।

তালিকা চূড়ান্ত নয়

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ৭৯ নম্বর বুথ, নন্দনায়কবাড় প্রাইমারি স্কুল— যা বিরোধী দলনেতার বুথ হিসেবে পরিচিত— সেখানে খসড়া তালিকা অনুযায়ী ১১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই তালিকা চূড়ান্ত নয়। এটি শুধুমাত্র একটি খসড়া পর্যায়, যেখানে পরবর্তী ধাপে সংযোজন ও সংশোধনের সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে।

   

এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, SIR প্রক্রিয়ার আওতায় আপাতত যে হিসেব সামনে এসেছে, তাতে খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৫৮ লক্ষেরও বেশি। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই সংখ্যাকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং এটি একটি প্রশাসনিক যাচাইয়ের মধ্যবর্তী ধাপ।

কেন বাদ বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম?

তাহলে কেন এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গেল? এই প্রশ্নের ব্যাখ্যাও দিয়েছে কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই মৃত ভোটার। মোট ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২ জন মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ পাওয়া যায়নি, এমন ভোটারের সংখ্যা ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন। অন্যদিকে, স্থায়ীভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছেন— এমন ভোটারের সংখ্যা ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৮ জন।

এ ছাড়াও ভোটার তালিকায় থাকা ডুপ্লিকেট বা পুনরুক্ত এন্ট্রি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার কাজ হয়েছে। এই কারণে প্রায় ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩২৮ জন ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

খসড়া তালিকা প্রকাশ মানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

তবে নির্বাচন কমিশন জোর দিয়ে জানিয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশ মানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। এই পর্যায়ের পরেই শুরু হবে দাবি ও আপত্তি গ্রহণের পাশাপাশি শুনানি পর্ব। প্রয়োজনে ভোটারদের ডেকে পাঠিয়ে নথি যাচাই করা হবে, প্রশ্ন করা হবে এবং সব কিছু সঠিক প্রমাণিত হলে তবেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কমিশনের স্পষ্ট বার্তা— খসড়া তালিকা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এখনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাকি রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই প্রকাশ পাবে পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, যা আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতির ভিত্তি তৈরি করবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন