শিলিগুড়ি স্টেশন থেকে উদ্ধার ৫৬ যুবতী, আটক ৩

Illegal Immigrants Arrested Delhi
Illegal Immigrants Arrested Delhi

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ৫৬ জন যুবতী উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল রেল পুলিস(Railway Police)। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিলিগুড়ি ও কলকাতায়। বুধবার কলকাতার বাসিন্দা ও অভিযুক্ত এনজিও-র প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জিতেন্দ্র পাসওয়ানকে আটক করে তদন্তকারীরা। অভিযুক্তকে নিয়ে শিলিগুড়ি ইস্টার্ন বাইপাস এলাকার অফিসে পৌঁছায় রেল পুলিসের তদন্তকারী দল। খতিয়ে দেখা হয় বেশ কিছু নথি। উদ্ধার করা হয়েছে কম্পিউটারের সিপিইউ। পাশাপাশি যুবতীদের কোথায় রাখা হতো এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, তাও খতিয়ে দেখেন অফিসাররা।

এদিকে মঙ্গলবারই শিলিগুড়িতে এসে পৌঁছায় সংস্থার ছত্তিসগড়ের কো-অর্ডিনেটর বীজেন্দ্র প্রতাপ সিং। এদিন তাঁকেও টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। তারপরই তাঁর কথায় বেশকিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও বীজেন্দ্র প্রতাপের দাবি, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত একটি প্রজেক্ট এবং কোনও জালিয়াতির প্রশ্নই ওঠে না। তিনি আরোও দাবি করেন, এখনও পর্যন্ত ১০০ জন যুবতীকে ভিন রাজ্যে চাকরি দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সংস্থায় যুবতীদের হোটেল ম্যানেজমেন্টের ট্রেনিং দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। অথচ ওই যুবতীদের ফোনের কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলায় উঠছে প্রশ্ন। ধৃত জিতেন্দ্র পাসওয়ান জানান, সবকিছুই নিয়ম মেনেই হচ্ছিল, কিন্তু কিছু তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

   

পুলিশের সূত্রের খবর, বিগত তিন বছর ধরে শিলিগুড়িতে কাজ চালাচ্ছিল ওই ছত্তিশগড়ভিত্তিক সংস্থাটি। সংস্থার উত্তরবঙ্গ শাখার প্রধান ছিলেন পাসওয়ান। তাঁর তত্ত্বাবধানেই ৫৬ জন যুবতীকে ক্যাপিটাল এক্সপ্রেসে করে বিহারের পাটনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে তাঁদের ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয় রেল পুলিস।

যুবতীদের স্থানান্তরের সঠিক কারণ বা উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে না পারায়, সংস্থার আরও এক কর্মী চন্দ্রিমা করকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনজনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করলে এই রহস্যময় কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন