গ্রাহকদের ১২২ কোটি টাকা উধাও, RBI-র তদন্তে ফাঁস হল ব্যাংক জালিয়াতির কাহিনি

নিউ ইন্ডিয়া কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের জন্য একটি বড় বিপদ ডেকে আনল আরবিআই। ব্যাংকটির ওপর হঠাৎ আর্থিক লেনদেনের নিষেধাজ্ঞা জারি করল রিজার্ভ ব্যাংক। গ্রাহকরা আর তাঁদের…

122 Crore Syphoned in 5 Years: How RBI Uncovered Massive Embezzlement at New India Co-Operative Bank

নিউ ইন্ডিয়া কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের জন্য একটি বড় বিপদ ডেকে আনল আরবিআই। ব্যাংকটির ওপর হঠাৎ আর্থিক লেনদেনের নিষেধাজ্ঞা জারি করল রিজার্ভ ব্যাংক। গ্রাহকরা আর তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারছেন না এবং সেই সঙ্গে নিজেদের জমা রাখা অর্থের ভবিষ্যত সম্পর্কে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল আরবিআই? তদন্তে উঠে এল ১২২ কোটি টাকার এক বিস্ময়কর গল্প, যা আর্থিক তছরুপের মাধ্যমে উধাও হয়ে গেছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ ব্যাংক নিউ ইন্ডিয়া কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। জানা যায়, রিজার্ভ ব্যাংকের একটি অডিট টিম ব্যাংকের গোরেগাঁও ও প্রভাদেবী ব্রাঞ্চে আর্থিক বেনিয়ম লক্ষ্য করে। ব্যাংক কর্মী অতুল মাহাত্রের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তৃতীয় তলায় থাকা লকারগুলো খোলা হয়। আরবিআই-র আরেকটি টিম গোরেগাঁও ব্রাঞ্চে গিয়ে পৌঁছায় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সম্পদ গোনা শুরু করে। সেখানেই দেখা যায়, রেজিস্টারে যার উল্লেখ রয়েছে, সেই বিপুল পরিমাণ টাকা—১২২ কোটি টাকা—উধাও।

   

এদিকে, লকারে এবং অন্যান্য হিসাবের মধ্যে এই বিপুল অর্থের অভাব পাওয়া যায়, অথচ ব্যাংকের রেজিস্টারে সেই টাকার উল্লেখ স্পষ্টভাবে ছিল। তখনই আরবিআই কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের সিনিয়র কর্মীদের তলব করে এবং জানায় যে, ১২২ কোটি টাকা কোথায় গেল, তার কোনও হদিস মিলছে না। এর পরেই তদন্তে নামেন আরবিআই কর্মকর্তারা, এবং তারা প্রশ্ন করতে থাকেন, গোরেগাঁও ব্রাঞ্চের কর্মীরা এ ব্যাপারে কিছু জানেন কি না।

কিছু সময় পর, আরবিআইয়ের সামনে এসে ব্যাংকের প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার হিতেশ মেহতা অপরাধ স্বীকার করেন। দীর্ঘ জেরার পর তিনি জানালেন যে, তিনি নিজেই ১২২ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ করেছেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময়ে তিনি ব্যাংক থেকে টাকার বড় অঙ্ক নিয়ে সরিয়ে ফেলেন। নিজের পরিচিত মানুষদের টাকা ধার দিয়ে, ধীরে ধীরে তিনি এই আর্থিক তছরুপ চালিয়ে গেছেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এই অবৈধ কাজটি চালিয়েছিলেন।

এখন প্রশ্ন উঠছে, কিভাবে এত বড় আর্থিক দুর্নীতি এত বছর ধরে চলতে পেরেছিল? কীভাবে এত সময় ধরে ব্যাংক এবং আরবিআই কর্তৃপক্ষ এর বিষয়ে কিছু জানল না? এবং এই জালিয়াতি শুধু একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কিনা, তা নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে।

ব্যাংকের মধ্যে এই ধরনের আর্থিক দুর্নীতির ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। যেহেতু ব্যাংক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এর নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। এই ঘটনায় মুম্বই পুলিশ ইকোনমিক অফেন্স উইং তদন্ত শুরু করেছে এবং হিতেশ মেহতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রাহকদের টাকা উদ্ধার করতে এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আর্থিক নজরদারি কতটা যথাযথ ছিল, সে প্রশ্ন এখন উঠছে। ব্যাংকগুলো যদি এই ধরনের জালিয়াতির প্রতি আরও মনোযোগী না হয়, তবে গ্রাহকদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।