
ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ, কিংবদন্তি অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়া (Baichung Bhutia) এবার সোজাসুজি কড়া সমালোচনায় নাম লিখিয়েছেন। তাঁর মতে, সুনীল ছেত্রীর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক ‘মস্ত বড় ভুল’। সদ্য এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব থেকে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরে কার্যত ছিটকে গিয়েছে ভারতীয় দল। এই ব্যর্থতার পেছনে ভাইচুং দায়ী করছেন পুরনো খেলোয়াড়দের জোর করে টিকে থাকার মানসিকতাকে।
সুনীল ছেত্রী, ১৯ বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলছেন এবং করেছেন ৯৫টি আন্তর্জাতিক গোল। গত বছর অবসর নিয়েও আবার ফিরেছেন দলে প্রাক্তন কোচ মানোলো মার্কুয়েজের অনুরোধে। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পর থেকে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। চলতি বছরের মার্চ মাসেই সর্বশেষ ভারতের হয়ে গোল করেছেন ছেত্রী।
এই প্রেক্ষিতেই ভাইচুংয়ের (Baichung Bhutia) মন্তব্য, “সুনীল এক অসাধারণ ক্যারিয়ার উপহার দিয়েছে ভারতীয় ফুটবলকে। তবে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তটা একেবারেই ঠিক ছিল না। আমি আগেও বলেছি, এবার সরে দাঁড়ানোর সময়। শুধু সুনীল নয়, গুরপ্রীত সিং সান্ধুর মতো সিনিয়র ফুটবলারদেরও জায়গা ছেড়ে নতুনদের জায়গা করে দেওয়া উচিত।”
ভাইচুংয়ের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে ভারতের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর চিন্তা। তার মতে, বারবার সেই পুরনো মুখগুলোর ওপর নির্ভর করে চললে কখনই দীর্ঘমেয়াদে সুফল পাওয়া যাবে না। ভারতের স্ট্রাইকার সংকটের কথাও তিনি উল্লিখিত করেছেন, যেখানে ছেত্রী ছাড়া আর কোনো নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড উঠে আসছে না।
এশিয়ান কাপে সুযোগ না পাওয়া নিয়েও হতাশ ভাইচুং। তিনি বলেন, “এবারের এশিয়া কাপে ২৪টি দেশ খেলছে। এর মধ্যে ভারত যদি সুযোগ না পায়, তাহলে সেটা সত্যিই লজ্জার বিষয়। আমরা বারবার বিশ্বকাপের কথা বলি, অথচ নিজেদের অঞ্চলেই যদি টিকে থাকতে না পারি, তাহলে সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।”
ভারতীয় ফুটবলের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ভাইচুং বলেন, “আমরা ইউরোপীয় গ্ল্যামার ফুটবলকে অনুকরণ করার চেষ্টা করি, যেখানে বাস্তবতা ভিন্ন। আমাদের উচিত হবে জর্ডন, উজবেকিস্তানের মতো এশিয়ার সফল দেশগুলোর পথ অনুসরণ করা। নিজেদের উপযোগী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”
ভারতীয় ফুটবল এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। যেখানে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে গেলে প্রয়োজন নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দেওয়া। ভাইচুয়ের কথায়, এই মুহূর্তে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ভারতের ফুটবলের উন্নয়ন থেমে যাবে দীর্ঘদিনের জন্য।
তিনি আরও বলেন, “ফুটবলের জন্য আবেগ আছে, কিন্তু কৌশলগতভাবে আমরা এখনও পিছিয়ে। কোচিং, ট্যালেন্ট হান্ট, ক্লাব কাঠামো সবেতেই আরও পেশাদার মনোভাব দরকার।”










