কানাডার বিমানে ৫০% শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের! তুঙ্গে বাণিজ্য সংঘাত

ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন মাত্রায় পৌঁছাল। বিমান শংসাপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল৷ এবার কানাডা থেকে আমদানিকৃত সমস্ত বিমানের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Trump Canada aircraft tariff

ওয়াশিংটন: আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ নতুন মাত্রায় পৌঁছাল। বিমান শংসাপত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল৷ এবার কানাডা থেকে আমদানিকৃত সমস্ত বিমানের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিল ট্রাম্প। বিশেষ করে কানাডিয়ান বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থা বোম্বার্ডিয়ার-কে লক্ষ্য করেই এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে করে ট্রাম্প জানান, কানাডা যদি অবিলম্বে মার্কিন সংস্থা গালফস্ট্রিম অ্যারোস্পেস-এর বিজনেস জেটগুলোকে শংসাপত্র না দেয়, তবে এই পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে।

   

গালফস্ট্রিম বনাম বোম্বার্ডিয়ার: সংঘাতের মূলে কী?

ট্রাম্পের অভিযোগ, অটোয়া ‘অন্যায় এবং বেআইনিভাবে’ গালফস্ট্রিম ৫০০, ৬০০, ৭০০ এবং ৮০০ মডেলের জেটগুলোর সার্টিফেকেশন আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, গালফস্ট্রিম বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বিমান। কিন্তু কানাডা ইচ্ছাকৃতভাবে এর সার্টিফিকেশন দিচ্ছে না এবং কার্যত তাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে গালফস্ট্রিম বিক্রিতে বাধা দিচ্ছে।”

এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, আমেরিকাও কানাডার তৈরি বোম্বার্ডিয়ার বিমান, বিশেষ করে তাদের ফ্ল্যাগশিপ গ্লোবাল এক্সপ্রেস জেটগুলোর সার্টিফিকেশন বাতিল করবে। গালফস্ট্রিম পূর্ণ অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে তিনি জানান।

সার্বভৌমত্ব ও আলবার্টা প্রসঙ্গ Trump Canada aircraft tariff

এই বাণিজ্যিক উত্তেজনার মাঝে রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বেশ তপ্ত। সম্প্রতি আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ট্রাম্প প্রশাসন৷ উল্লেখ্য, আলবার্টা কানাডার প্রধান জ্বালানি উৎপাদনকারী প্রদেশ। এর আগে কানাডাকে আমেরিকার “৫১তম অঙ্গরাজ্য” করার বিষয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

কানাডার প্রতিক্রিয়া

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই হুমকির মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কানাডা তার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করবে না। কার্নি বলেন, ‘‘আমরা আশা করি মার্কিন প্রশাসন কানাডার সার্বভৌমত্বকে সম্মান করবে। আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি।’’

শুল্ক যখন হাতিয়ার

ট্রাম্প তার বাণিজ্যিক দাবি আদায়ে শুল্ককে বারবার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। গত বৃহস্পতিবারই তিনি কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এখন কানাডার বিমান শিল্পের ওপর এই বিশাল শুল্কের খাঁড়া ঝুলে থাকায় দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটলের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google