গত তিন দিন ধরে উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরে শুরু হওয়া বইমেলা (Shyamnagar Book Fair)ঘিরে বইপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চরমে। মঙ্গলবার সেই পরিবেশে আচমকাই চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, মেলার একটি বুক স্টলে বাংলাদেশের প্রকাশিত একাধিক বই বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানিয়ে মেলা কর্তৃপক্ষকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বইমেলার স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বর্তমানে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে সেদেশের প্রকাশিত বই এদেশের একটি প্রকাশ্য বইমেলায় স্থান পাওয়া হিন্দু সমাজের আবেগ ও অনুভূতিতে আঘাত করছে। তাদের বক্তব্য, যে দেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নেই, সেখানকার প্রকাশনা এভাবে প্রচার করা অনুচিত এবং অবিলম্বে ওই বইগুলো মেলা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
চাঁদনী মার্কেটের বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা অভিযোগ করেন, মেলা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেনেও উদাসীন থেকেছে এবং কোনও রকম যাচাই ছাড়াই সংশ্লিষ্ট স্টলকে বই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন মেলা প্রাঙ্গণে স্লোগান ওঠে এবং কিছু সময়ের জন্য দর্শনার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে আঁচ করে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় জগদ্দল থানার পুলিশ। পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হয়।
মেলা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, বইমেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলিকে সাধারণ নিয়ম মেনেই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট বইগুলি নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি তাদের নজরে আগে আসেনি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার কথা জানান। অন্যদিকে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভবিষ্যতে যদি ওই বইগুলি মেলায় রাখা হয়, তাহলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, বইমেলা জ্ঞানের আদান-প্রদানের একটি মুক্ত মঞ্চ হলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে কিছু বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের খবর নিয়মিত প্রকাশ্যে আসায় মানুষের মনে ক্ষোভ জমছে, আর সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই এই বিক্ষোভ। যদিও অন্য একাংশের মত, কোনও বই শুধুমাত্র দেশের পরিচয়ের কারণে নিষিদ্ধ করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
