
চন্ডীগড়ে দ্বিতীয় টি ২০ ম্যাচে মুখোমুখি ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা (India vs South Africa)। আজ টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ব্যাটিং করতে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাটে রান পেলেন কুইন্টন ডি কক। কিন্তু ফের ভারতের বোলিং বিপর্যয়। কাল হল ডিউ ফ্যাক্টর। প্রথম ইনিংসের শেষে বড় লক্ষ্য ভারতের সামনে চণ্ডীগড়ে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে এমন ঘটনারই সাক্ষী হলেন সমর্থকরা।
কলকাতায় মেসির মঞ্চে ‘খান সাহেব’, অপেক্ষা বাড়ল ভক্তদের!
টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে শুরুতে আত্মবিশ্বাসী দেখালেও, রাত বাড়তে না বাড়তেই শিশির পর ভারতীয় বোলারদের উপর যেন অদৃশ্য চাপ নেমে আসে। স্লো বাউন্সার, ইয়র্কার, লেংথ কিছুই কাজে এল না দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ঝড় থামাতে। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংস শেষে ভারতের সামনে দাঁড়িয়ে গেল এক বিরাট লক্ষ্য।
কলকাতায় মেসির মঞ্চে ‘খান সাহেব’, অপেক্ষা বাড়ল ভক্তদের!
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের পুরোটাই আসলে ছিল কুইন্টন ডি ককের একক প্রদর্শনীর মতো। ব্যাটিং শুরু থেকেই মারমুখী মনোভাব নিয়ে নামেন তিনি। ভারতীয় বোলাররা বারবার লাইন-লেন্থ বদলালেও কোনও লাভ হয়নি। কাট, পুল, লফট—ডি কক সব শটই খেললেন যেন অনুশীলন সেশনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তাঁর ৪৬ বলের ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দিল মজবুত ভিত্তি। ৫টি চার ও ৭টি ছয়ে সাজানো এই ইনিংস ভারতীয় ক্যাম্পে স্পষ্ট চাপ তৈরি করে। শেষমেশ জিতেশ শর্মার থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন তিনি, কিন্তু তখন ক্ষতি হয়ে গেছে অনেকটাই।
রিজা হেনড্রিকসকে মাত্র ৮ রানে ফেরান বরুণ চক্রবর্ত্তী। এরপর অধিনায়ক মার্করাম চেষ্টা করলেও বরুণের রহস্যময় স্পিনে তাঁকেও ২৯ রানে উইকেট হারাতে হয়। বরুণ আজ ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ৪ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট। তাঁর সঠিক লাইন ও কার্ভড লেন্থ কিছুটা আশা জাগালেও অন্য প্রান্তে বোলারদের বেহাল দশা পরিস্থিতি একেবারে পাল্টে দেয়।
মাঝে ডিউও যেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। বল হাত থেকে পিছলে যাচ্ছিল ভারতীয় বোলারদের। সিমাররা লেন্থ মেলাতে পারছিলেন না, স্পিনারদের হাতে বল ঘুরছিল না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত রান তোলেন ব্রেভিস (১৪ বলে ১৪), ডোনোভান ফেরেইরা (১৫ বলে ৩০) এবং ডেভিড মিলার (১২ বলে ২০)—মিলার-ফেরেইরার শেষ দিকের আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসকে আরও এগিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, ভারতের বোলিং ফিগার যেন কঠিন বাস্তবচিত্র। আর্শদীপ সিং ৪ ওভারে দেন ৫৪ রান টি-২০ স্কেলে ভয়ঙ্কর। বুমরাহও ছিলেন ছন্দহীন, ৪ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। হার্দিক পান্ডিয়া ও শিবম দুবে–দুজনের মিলিত ৫ ওভারে উঠে যায় ৫২ রান। কেবল বরুণ ও অক্ষর সামান্য নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছেন।
ম্যাচের মোড় ঘোরানো আসলে একটাই শব্দ ডিউ। সন্ধ্যা বাড়তেই উইকেট স্লিপারি হয়ে যায়, আউটসুইং বা গুড লেন্থ বল গ্রিপ হারায়। ডি ককের ধ্বংসাত্মক ব্যাটও এর সুযোগ নিয়ে নেয়। ভারতীয় বোলাররা পরে বারবার তোয়ালে ব্যবহার করলেও কোনও কাজ হয়নি।
প্রথম ইনিংস শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরবোর্ডে জমে ওঠে বড়সড় রান যা তাড়া করতে ভারতকে খেলতেই হবে ‘চেজ মাস্টার’ মানসিকতা নিয়ে। গিল-সুর্যকুমারদের সামনে কাজটা সহজ হবে না। ডিউ কাজ করেছে আফ্রিকার পক্ষে, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই ডিউ কি ব্যাটিংকে আরও সাহায্য করবে? সেটাই এখন লক্ষ লক্ষ ভারতীয় সমর্থকের আশা।
Innings Break!
South Africa set a 🎯 of 2⃣1⃣4⃣ in the 2nd T20I#TeamIndia chase coming up ⌛️
Scorecard ▶️ https://t.co/japA2CIofo#INDvSA | @IDFCFIRSTBank pic.twitter.com/v81k2aqKky
— BCCI (@BCCI) December 11, 2025










