ভারতের বোলিং টর্নেডোয় ধরাশায়ী প্রোটিয়া দুর্গ

কটকের বারাবাটি স্টেডিয়ামে প্রথম টি ২০ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিল ভারতীয় বাহিনী (India vs South Africa 1st T20)। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা…

india-vs-south-africa-1st-t20-india-dominates-with-bowling

কটকের বারাবাটি স্টেডিয়ামে প্রথম টি ২০ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিল ভারতীয় বাহিনী (India vs South Africa 1st T20)। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও হার্দিক পান্ডিয়ার ৫৯ ব্যাটে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৭৬ রানের লক্ষ্য মাত্রা দেয় ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কার্যত দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।

Advertisements

কিন্তু ম্যাচের আসল রূপকথা তৈরি করেন ভারতীয় বোলাররা। প্রথম ওভার থেকেই আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা স্পষ্ট ছিল। অর্শদীপ সিং ইনিংসের শুরুতেই যেভাবে পেস এবং সুইং মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডারকে চাপে ফেলেন, তা দেখতে ছিল অনবদ্য। মাত্র ২ ওভারে ১৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন ২ উইকেট যা দক্ষিণ আফ্রিকার আত্মবিশ্বাস একদম নীচে নামিয়ে আনে।

   

কলকাতা ম্যারাথনে রেকর্ড ভাঙার লড়াইয়ে চেপ্টেগেই বনাম সিম্বু

তারপর উঠে এলেন ভারতের ভয়ংকর স্ট্রাইক বোলার যশপ্রীত বুমরাহ। তিন ওভার জুড়ে বুমরাহর নিখুঁত লাইন, লেংথ এবং গতি পরিবর্তনের কৌশল প্রোটিয়া ব্যাটারদের ভীষণ সমস্যায় ফেলে। তাঁর ৩ ওভারে ১৭ রান খরচে ২ উইকেট নেওয়াটাই বলে দিচ্ছে কেন বুমরাহ আজকের আধুনিক ক্রিকেটে বিশ্বের অন্যতম সেরা টি–২০ বোলার।

ম্যাজিকাল উপস্থিতি দেখালেন মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্ত্তী। তাঁর বলের ভ্যারিয়েশন পড়তে একেবারেই ব্যর্থ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডল অর্ডার। বরুণ মাত্র ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে তুলে নিলেন ২ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এবং সঙ্গে এক ওভার মেডেন! টি–২০ ক্রিকেটে যেটা এক বিরল দৃশ্য। এমন অবস্থায় অ্যাক্সার প্যাটেলও পিছিয়ে থাকলেন না। ২ ওভারে ৭ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার মেরুদণ্ডটাই কার্যত ভেঙে দেন। স্পিন বিভাগকে আরও জমাট করে তোলেন বরুণ ও অ্যাক্সারের যুগলবন্দি।

হার্দিক শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও ২ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নিলেন ১ উইকেট। ম্যাচের শেষ পর্যায়ে শিভম দুবে ৩ বলের মধ্যেই ১ রান দিয়ে শেষ করে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। বলা যায়, ভারতীয় বোলিং লাইনআপ ছিল এক কথায় অবিকল্প, আগ্রাসী এবং ভয়ংকর।

দক্ষিণ আফ্রিকা কোনও পর্যায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। বোলিংয়ে ব্যথা, ব্যাটিংয়ে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে ভারতীয়দের সামনে তাদের অসহায়ই দেখাল। এই জয়ের ফলে ভারত শুধু ১–০ ব্যবধানে এগোল তা নয়, সিরিজেও মনস্তাত্ত্বিকভাবে দারুণ ভাবে এগিয়ে গেল। আগামী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

ভারতীয় ক্রিকেটে তরুণ আর অভিজ্ঞদের যে মিশেল তৈরি হচ্ছে, এই ম্যাচ তারই সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রমাণ। অর্শদীপ–বুমরাহ–বরুণ–অ্যাক্সারদের এই টর্নেডো বোলিং ও হার্দিকের লড়াকু ব্যাটিং—সব মিলিয়ে বারাবাটি স্টেডিয়ামে এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেল।

Advertisements