পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৪০ এ গুটিয়ে গেল অনূর্ধ ১৯ ভারতের ইনিংস

দুবাই: দুবাইয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজ (India U19 vs Pakistan Asia Cup)গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেমেছিল ভারত। টসের পর ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ঝোড়ো…

india-u19-vs-pakistan-asia-cup-240-all-out

দুবাই: দুবাইয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজ (India U19 vs Pakistan Asia Cup)গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেমেছিল ভারত। টসের পর ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ঝোড়ো হলেও শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানেই গুটিয়ে গেল ভারতীয় ইনিংস। মাঝের ওভারে লড়াই দেখালেও শেষের দিকে নিয়মিত উইকেট হারানোয় বড় স্কোর গড়া সম্ভব হলো না। পাকিস্তানের বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আক্রমণ ও ক্যাচিংয়ের দৃঢ়তায় চাপের মুখে পড়ে যায় ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ।

Advertisements

ইনিংসের শুরুতে অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে আক্রমণাত্মক মেজাজে নামেন। মাত্র ২৫ বলে ৩৮ রান করে তিনি দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ইনিংস সাজিয়ে ম্যাচে গতি আনেন আয়ুষ। তবে তাঁর আক্রমণাত্মক মানসিকতার সুযোগ নিয়ে মোহাম্মদ সাইয়্যামের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। ওপেনিং জুটিতে বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে বড় কিছু করার ইঙ্গিত মিললেও বৈভবও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ বলে ৫ রান করে সাইয়্যামের বলেই ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফলে পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ভারত হারায় দুই উইকেট।

   

মেসি ইভেন্টে হুমড়ি খেয়ে পড়া পরিস্থিতি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান তদন্ত কমিটির

চাপের পরিস্থিতিতে ইনিংস সামাল দেন অ্যারন জর্জ। তিনি একপ্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্য ও আক্রমণের সুন্দর মিশ্রণ দেখান। ৮৮ বলে ৮৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও একটি ছয়। অ্যারনের ব্যাটিংয়ে ভর করেই ভারত ২০০-র গণ্ডির দিকে এগোতে থাকে। তাঁর সঙ্গে মাঝের ওভারে কনিষ্ক চৌহান কার্যকর জুটি গড়েন। কনিষ্ক ৪৬ বলে ৪৬ রান করে ইনিংসে ভারসাম্য আনেন, যেখানে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছয়। এই জুটিই ভারতের স্কোরবোর্ডে গতি ফেরায়।

তবে অন্য প্রান্তে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে। বিহান মালহোত্রা ১৬ বলে ১২ রান করে নিকাব শাফিকের বলে ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড হন। বেদান্ত ত্রিবেদী ২২ বলে মাত্র ৭ রান করে একই বোলারের শিকার হন। উইকেটরক্ষক অভিগ্যান কুন্ডু ৩২ বলে ২২ রান করে চেষ্টা করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তাঁর বিদায়ের পর ভারতের ইনিংস আবার ধাক্কা খায়।

শেষের দিকে খিলান প্যাটেল, হেনিল প্যাটেল ও দীপেশ দেবেন্দ্রন কেউই বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন। খিলান ১৫ বলে ৬, হেনিল ২০ বলে ১২ এবং দীপেশ ৫ বলে মাত্র ১ রান করে ফিরে যান। ফলে শেষ কয়েক ওভারে দ্রুত উইকেট পড়ায় ২৬০–২৭০-এর সম্ভাব্য স্কোর ২৪০-এ থেমে যায়।
পাকিস্তানের হয়ে বোলিংয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন মোহাম্মদ সাইয়্যাম ও আবদুল সুভান। সাইয়্যাম গুরুত্বপূর্ণ টপ অর্ডার ভেঙে দেন, অন্যদিকে আবদুল সুভান একাধিক মাঝের ও শেষের উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের ইনিংসের রাশ টেনে ধরেন। নিকাব শাফিকও কার্যকর ভূমিকা নেন।

২৪০ রানের পুঁজি অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে লড়াই করার মতো হলেও পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের বিরুদ্ধে ভারতীয় বোলারদের নিখুঁত শুরু প্রয়োজন। দুবাইয়ের উইকেট ব্যাটিং-বান্ধব হলেও ম্যাচের চাপ ও ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের উত্তেজনা ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, বল হাতে এই ২৪০ রানকে কতটা কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারে অনূর্ধ্ব-১৯ ভারত।

Advertisements