২০২২ সালে ঘটে যাওয়া হাঁসখালি নাবালিকা গণধর্ষণ কাণ্ডে বড় সিদ্ধান্ত আদালতের। এই ঘটনায় তদন্ত খতিয়ে দেখে ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত। মঙ্গলবার হবে সাজা ঘোষণা। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার হাঁসখালিতে ২০২২ সালে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর নাবালিকা গণধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে ন্যায়বিচারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ নিল আদালত।
সোমবার রানাঘাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (এডিজে) আদালত ৯ জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতার ছেলে ব্রজগোপাল গোয়ালি ওরফে সোহেল গোয়ালি এবং তার বাবা সমর গোয়ালি। মঙ্গলবার এই দোষীদের সাজা ঘোষণা করা হবে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত করা এই মামলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়কে নিহতের পরিবার এবং সমাজের একাংশ স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখছেন।
২০২২ সালের ৪ এপ্রিল হাঁসখালির একটি বাড়িতে জন্মদিনের পার্টির নাম করে ১৪ বছরের এক নাবালিকাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মদ্যপান করিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে বাড়ির সামনে ফেলে দেওয়া হয়। রাতভর রক্তক্ষরণের পর পরদিন তার মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছিল যে, অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি করে দেহ সৎকার করে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে তোলপাড় পড়ে যায়। রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়। কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআই-কে। সিবিআইয়ের চার্জশিটে ৯ জনের নাম উঠে আসে, যাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, হত্যা, প্রমাণ নষ্ট করা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। পকসো আইনের কঠোর ধারাগুলোও প্রয়োগ করা হয়।
আদালতের এই রায়কে অনেকে ন্যায়ের জয় বলে মনে করছেন। নিহত নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা বলেন, “এতদিন পর হলেও কিছুটা স্বস্তি মিলল। কিন্তু আমাদের মেয়েকে তো ফিরে পাব না।” তারা আশা করছেন, মঙ্গলবার কঠোরতম সাজা ঘোষণা করবে আদালত যাতে অন্য কোনো মেয়ের সঙ্গে এমন না ঘটে। রাজ্যের মহিলা সংগঠনগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তদন্তে দেরি হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
মূল অভিযুক্ত সোহেল গোয়ালির বাবা স্থানীয় তৃণমূল নেতা হওয়ায় বিরোধীরা রাজ্য সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্যও বিতর্ক বাড়িয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত নিরপেক্ষভাবে এগোয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে। এখন সাজার পরিমাণ কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। পকসো আইনে গণধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে, যদিও তা নির্ভর করবে বিচারকের বিবেচনার উপর।
