টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) ঘিরে জটিলতা যেন কাটছেই না। দীর্ঘ টানাপোড়েন, বৈঠক আর রাজনৈতিক টানাহেঁচড়ার পর অবশেষে বাংলাদেশের নাম বাদ দিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে হেঁটেছে আইসিসি। কিন্তু তাতেও যে বিতর্ক থামেনি, সেটাই এখন পরিষ্কার। বরং নতুন করে আগুনে ঘি পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্ভাব্য ‘বয়কট’ সিদ্ধান্তে।
সুযোগ পেয়ে বিশ্বকাপ অভিযান অনিশ্চিত স্কটল্যান্ডের! কি ঘটল?
ক্রিকেটমহলের অন্দরমহলে গুঞ্জন, বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির আচরণে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান। তাদের দাবি, বাংলাদেশকে কার্যত সৎমায়ের মতো ব্যবহার করা হয়েছে। সেই প্রতিবাদেই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারে পিসিবি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট। আর যদি সেটাই হয়, তাহলে অপ্রত্যাশিতভাবেই বিশ্বকাপে দরজা খুলে যেতে পারে বাংলাদেশের।
সূত্রের খবর, আইসিসি বাংলাদেশকে এখনও বিশ্বকাপের স্ট্যান্ডবাই দল হিসেবে রেখেছে। কারণ একটাই বাংলাদেশ কখনও সরাসরি বিশ্বকাপ বর্জনের কথা বলেনি। তাদের আপত্তি ছিল শুধুমাত্র ভেন্যু নিয়ে। বাংলাদেশের দাবি, ভারতে না খেলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন করা হলে তারা খেলতে রাজি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্বস্তির। তাদের সব ম্যাচই রাখা হয়েছে শ্রীলঙ্কায়। এমনকি নকআউটে উঠলেও পাকিস্তানকে ভারতের মাটিতে যেতে হবে না। সেখানেই প্রশ্ন উঠছে, এত সুবিধা পাওয়ার পরও কি আদৌ বয়কটের পথে হাঁটবে পাকিস্তান?
ক্রিকেটবিশেষজ্ঞদের বড় অংশ মনে করছেন, পাকিস্তানের বয়কটের সম্ভাবনা বাস্তবে খুবই কম। কারণ বিশ্বকাপ বয়কট মানেই আইসিসির কঠোর শাস্তি। মোটা অঙ্কের জরিমানা, ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক ক্ষতি। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের পায়েই কুড়ুল মারবে না পিসিবি, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
বিশ্বকাপের আগে অবসর নিয়ে ভক্তদের চমকে দিলেন তারকা পেসার
এই গোটা পরিস্থিতির মাঝখানে আইসিসির নতুন কৌশলকে অনেকেই দেখছেন ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে। পাকিস্তান যদি চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেয়, তাহলে সব ঠিক। আর যদি সত্যিই তারা সরে দাঁড়ায়, তাহলে নিয়ম মেনেই বাংলাদেশকে ঢুকিয়ে দেওয়া যাবে টুর্নামেন্টে। আইসিসির মুখও পুড়বে না।
প্রশ্নটা এখন একটাই, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে কি সত্যিই বড় ঝুঁকি নেবে পাকিস্তান? নাকি সবটাই চাপ তৈরির কৌশল? আপাতত ক্রিকেটবিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে পিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ সেই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে. বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রত্যাবর্তন কি বাস্তব হবে, নাকি থেকে যাবে শুধুই সম্ভাবনার গল্প।




















