
ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত (Starmer)বিতর্ক এবং তার জেরে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের ওপর বাড়তে থাকা চাপ। আন্তর্জাতিক যৌন কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত ধনকুবের এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে বসানো নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন ব্রিটিশ রাজনীতির বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই সামনে আসছে পাকিস্তান বংশোদ্ভূত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম, যাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
বিতর্কের সূত্রপাত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে। তিনি লেবার পার্টির বর্ষীয়ান নেতা এবং এপস্টিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ নিয়ে বহুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। অভিযোগ, এপস্টিন সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও ম্যান্ডেলসন তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এই বিতর্কের মাঝেই তাকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পরে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা বাড়তে থাকে এবং সরকারকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়।
এই ঘটনার জেরে স্টার্মারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীরা তো বটেই, শাসকদল লেবারের মধ্যেও অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। একাধিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ইস্যুতে সরকারের শীর্ষস্তরে চাপ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক মহলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনাও শুরু হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় উঠে এসেছে শাবানা মাহমুদের নাম। বর্তমানে তিনি ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিক ব্রিটেনের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করেন এবং আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেন।
মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর তিনি কঠোর প্রশাসনিক ভাবমূর্তির জন্য পরিচিতি পান। অভিবাসন নীতি নিয়ে তার অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। কিছু প্রস্তাবে তিনি স্থায়ী বসবাসের অনুমতির সময়সীমা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই কঠোর অবস্থান তাকে দলের মধ্যপন্থী ও ডানদিকে ঝুঁকে পড়া ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের প্রশ্নে ভবিষ্যতে পরিবর্তন হলে শাবানা মাহমুদ সম্ভাব্য মুখ হতে পারেন এমন জল্পনা এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে। তবে বাস্তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা নির্ভর করবে স্টার্মারের অবস্থান, দলীয় সমর্থন এবং সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর। ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দলীয় নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন সহজ নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টিন–সংক্রান্ত বিতর্ক এখন স্টার্মারের জন্য বড় পরীক্ষা। এই ইস্যু কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে তদন্তের ফল, দলীয় সমর্থন এবং জনমতের ওপর। তবে আপাতত ব্রিটেনের রাজনীতিতে নেতৃত্বের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা যে তুঙ্গে, তা বলাই যায়।













