বহু পরিকল্পনা নিয়ে এই সিজনের প্রথমে মিকেল স্ট্যাহরেকে দলের দায়িত্ব দিয়েছিল কেরালা ব্লাস্টার্স (Kerala Blasters)। পুরনো সব হতাশা ভুলে তাঁর হাত ধরেই সাফল্যের স্বাদ পাওয়ার পরিকল্পনা ছিল সকল সমর্থকদের। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দেশের প্রথম ডিভিশন লিগ তথা আইএসএলে জয় দিয়ে শুরু করার লক্ষ্য থাকলেও সেটা সম্ভব হয়নি। প্রথম ম্যাচেই ধাক্কা খেতে হয়েছিল পাঞ্জাব এফসির কাছে। তা খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি সমর্থকরা। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচে ইমামি ইস্টবেঙ্গলের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল কেরালা।
তবে সময় এগোনোর সাথে সাথেই একের পর এক ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করেছে দক্ষিণের এই ফুটবল ক্লাব। সেই নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছিল অনুরাগীরা। এমন পরিস্থিতিতে গত নভেম্বরে বছরের শেষের দিকেই বিদায় জানানো হয় এই সুইডিশ কোচকে। পাশাপাশি দল থেকে বাদ দেওয়া হয় সকল সাপোর্টিং স্টাফকে। তারপর থেকেই দলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন থেক্কাথারা পুরুষোথামণ। বলাবাহুল্য, অন্তবর্তীকালীন এই ভারতীয় কোচের তত্ত্বাবধানেই নিজেদের পুরনো ছন্দের ফিরতে শুরু করেছিল দক্ষিণের এই ফুটবল। আইএসএলের প্রথম লেগে একটা সময় দল একেবারে তলানিতে চলে গেলে ও সময়ের সাথে সাথে ফিরেছিল ছন্দ। যারফলে দেশের এই প্রথম ডিভিশন লিগের সুপার সিক্সের আশা দেখতে শুরু করেছিল অনেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

বিশেষ করে অ্যাওয়ে ম্যাচে শক্তিশালী জামশেদপুর এফসির বিপক্ষে এগিয়ে থেকে ও জয় সুনিশ্চিত করতে পারেনি কেরালা ব্লাস্টার্স। আইবান ঢাওলিংয়ের আত্মঘাতী গোলে নক আউটে পৌঁছানোর স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় আইএসএলের এই ফুটবল ক্লাবের। তবে পরবর্তী ম্যাচ গুলিকে ও হালকাভাবে নিতে নারাজ ছিলেন পুরুষোথামণ। সেইমতো প্রস্তুত করেছিলেন দলের সকল ফুটবলারদের। শেষ ম্যাচে ও আশানুরূপ ফল না হওয়ায় যথেষ্ট হতাশা দেখা দিয়েছিল সকলকের মধ্যে। এখন পুরনো সমস্ত কিছু ভুলে সুপার কাপের ম্যাচে ইমামি ইস্টবেঙ্গলকে পরাজিত করাই অন্যতম লক্ষ্য দলের ফুটবলারদের।
তবে এসবের মাঝেই গত কয়েকদিন আগে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেছে কেরালা ব্লাস্টার্স। সেই অনুযায়ী দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে স্প্যানিশ কোচ ডেভিড কাতালাকে। একটি মরসুমের জন্য তাঁর উপরেই ভরসা রাখছে দক্ষিণের এই ফুটবল ক্লাব। দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, ” কেরালাতে যোগদান করা আমার কাছে যথেষ্ট সম্মানের। এই ক্লাবের রয়েছে অতুলনীয় আবেগ, এবং সমর্থকরা প্রতিটি ম্যাচকে একটি দর্শনীয় করে তোলে। আমরা একসাথে সাফল্যের পিছনে ছুটব।” তবে এখনও পর্যন্ত দলের সঙ্গে যুক্ত হননি তাঁর সাপোর্টিং স্টাফেরা। মনে করা হচ্ছে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দলের সঙ্গে যোগদান করবেন বাকিরা।