Virat Kohli: কোহলির রহস্য ফাঁস! সেরা ক্রিকেটার হলেন কীভাবে?

Virat Kohli Gifts Signed Jersey to Kevin Pietersen’s Son

বিরাট কোহলি (Virat Kohli) বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের পাশাপাশি, ক্রিকেটের ফিটনেস আইকনও (Fitness Icon)। তাঁর ফিটনেস নিয়ে অনেক আলোচনা হয় এবং এই বিষয়ে তাঁর অভ্যাসগুলো তরুণ অ্যাথলিটদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস। কোহলির ফিটনেসের সাফল্য শুধুমাত্র তার প্রতিভার কারণে নয়, বরং তিনি যে কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনধারা অনুসরণ করেন সেটি তাঁর শীর্ষ পর্যায়ে থাকার মূল কারণ। ফিটনেসের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ও অটুট মনোভাবই তাঁকে আজকের অবস্থানে পৌঁছতে সহায়তা করেছে।

১. সুগঠিত প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা (Structured Training Regimen)

   

বিরাট কোহলি তাঁর শারীরিক প্রস্তুতির জন্য একটি পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত ট্রেনিং রুটিন অনুসরণ করেন। তাঁর ট্রেনিংয়ে থাকে হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভ্যাল ট্রেনিং (HIIT), ওয়েট ট্রেনিং (Strength Training) এবং ফাংশনাল এক্সারসাইজ। এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাকে প্রতিটি পেশী কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সাহায্য করে এবং তার শরীরের ফিটনেসকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখে। কোহলি জানেন, শুধু এক ধরনের ট্রেনিং যথেষ্ট নয়। তাই তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করেন, যা শরীরের সব দিককে শক্তিশালী করে।

২. মানসিক দৃঢ়তা ও ফোকাস (Mental Fitness)

শারীরিক ফিটনেসের পাশাপাশি কোহলি মানসিকভাবে খুবই দৃঢ়। তার খেলার মধ্যে মানসিক শান্তি, ফোকাস ও ধৈর্য লক্ষণীয়। কোহলি নিয়মিত ধ্যান (meditation) এবং মাইন্ডফুলনেস (mindfulness) প্র্যাকটিস করেন, যা তাকে চাপের মধ্যে শান্ত থাকতে সাহায্য করে। মানসিক প্রশিক্ষণ তাঁকে খেলায় আরও তীক্ষ্ণ মনোযোগ প্রদান করে, এবং চাপের মুহূর্তে সে শান্ত থাকে, যা তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে সফলতার মূল কারণ।

৩. কঠোর পুষ্টি পরিকল্পনা (Disciplined Nutrition)

কোহলি তাঁর খাদ্যাভ্যাসে অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। তিনি পুষ্টিকর, সুষম খাবার খান যা তাঁর শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। এছাড়া, তাঁর ডায়েটে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট, যা তার ইনজুরি প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়াও, সঠিক খাদ্যাভ্যাস তাঁর শরীরের দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে, যা প্রতিটি ম্যাচের পর প্রয়োজনীয়।

৪. পুনরুদ্ধারকে গুরুত্ব দেওয়া (Prioritising Recovery)

যেহেতু বিরাট কোহলি দীর্ঘসময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ের পারফরম্যান্স প্রদান করছেন, তাই তাঁর রিকভারি রুটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোহলি শরীরের পূর্ণ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে নিয়মিত যোগব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেন। রিকভারি প্রক্রিয়াটি তাঁকে ইনজুরি থেকে মুক্ত রাখে এবং তার শরীরকে পুনরায় প্রস্তুত করে পরবর্তী ম্যাচের জন্য।

৫. কঠোর নিয়মশৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা (Unwavering Consistency)

কোহলির সবচেয়ে বড় গুণ হল তার শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা। তিনি প্রতিদিন একই রুটিন অনুসরণ করেন, তা সে অফ-সিজন হোক বা ভ্রমণের সময় হোক। কোহলির এই শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনধারা তাকে তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল প্রদান করতে সাহায্য করেছে।

বিরাট কোহলির ফিটনেস তার কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ফল। তার অভ্যাসগুলির মূল শিক্ষা হল দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের জন্য নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং মানসিক শান্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোহলির এই অভ্যাসগুলো তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি মূল্যবান শিক্ষা, যা তাদের নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করে তারা বড়ো সফলতা অর্জন করতে পারে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleসপ্তাহের শুরুতে বাজারে কমছে সবজির দাম
Next articleআইএএস পরীক্ষার্থীদের নতুন সুযোগ ‘দ্য অফিসার্স আইএএস’
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।