আইপিএলে এই ৫ বোলার প্রথম ওভারে ব্যাটসম্যানদের ঘুম কেড়েছে!

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)-এর ইতিহাসে প্রথম ওভারে উইকেট শিকারের ক্ষেত্রে কিছু বোলার তাদের দক্ষতা ও কৌশল দিয়ে নিজেদের আলাদা করে তুলেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে বোলিং…

Top 5 Bowlers with Most Wickets in the First Over of IPL

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)-এর ইতিহাসে প্রথম ওভারে উইকেট শিকারের ক্ষেত্রে কিছু বোলার তাদের দক্ষতা ও কৌশল দিয়ে নিজেদের আলাদা করে তুলেছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে বোলিং করা সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে যখন খেলাটি ব্যাটসম্যানদের পক্ষে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। আইপিএল-এ আমরা প্রায়ই দেখি দলগুলো ২০০-এর বেশি রান তুলে ফেলছে। ব্যাটসম্যানরা প্রথম বল থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু বোলার নতুন বলের সঙ্গে প্রথম ওভারে উইকেট তুলে নেওয়ার শিল্পে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন, যা প্রতিপক্ষকে শুরুতেই চাপে ফেলে দেয়। এই প্রতিবেদনে আমরা আইপিএল-এ প্রথম ওভারে সর্বাধিক উইকেট শিকারী পাঁচ বোলারের (Top 5 Bowlers) তালিকা নিয়ে আলোচনা করব।

   

১ এপ্রিল, ২০২৫ পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন, এবং ভারতীয়দের মধ্যে ভুবনেশ্বর কুমার প্রথম ওভারে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়ে দেশের রেকর্ড গড়েছেন।  আসুন দেখে নেওয়া যাক এই পাঁচ বোলারের কৃতিত্ব।

Advertisements

১. ট্রেন্ট বোল্ট – ৩০ উইকেট

নিউজিল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার ট্রেন্ট বোল্ট আইপিএল-এ প্রথম ওভারে সর্বাধিক উইকেট শিকারী বোলার। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর চাহিদা তুঙ্গে, কারণ তিনি পাওয়ারপ্লেতে উইকেট তুলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রাখেন। আইপিএল-এ তিনি পাঁচটি দলের হয়ে খেলেছেন—মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স। তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা ১২০-এর বেশি, এবং এর মধ্যে ৩০টি উইকেট এসেছে প্রথম ওভারে।

বোল্টের সাফল্যের রহস্য তাঁর নতুন বলে সুইং করানোর ক্ষমতা এবং ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলার দক্ষতা। তিনি রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির মতো তারকাদের প্রথম ওভারেই প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছেন। ২০২০ সালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে আইপিএল জয় এবং ফাইনালে ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার তাঁর কৃতিত্বের প্রমাণ।

২. ভুবনেশ্বর কুমার – ২৭ উইকেট

ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বর কুমার আইপিএল-এ প্রথম ওভারে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার ভারতীয় রেকর্ডধারী। এই অভিজ্ঞ বোলার টি-টোয়েন্টিতে সব পর্যায়ে বোলিং করতে পারেন, তবে তাঁর প্রধান শক্তি নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের প্রধান অস্ত্র।

ভুবনেশ্বরের আইপিএল ক্যারিয়ারে মোট উইকেট ১৮৩, যা ভারতীয় পেসারদের মধ্যে সর্বাধিক। এর মধ্যে ২৭টি উইকেট এসেছে প্রথম ওভারে। তিনি ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে টানা দুই মরশুমে পার্পল ক্যাপ জিতেছেন, যা তাঁর ধারাবাহিকতার প্রমাণ। তাঁর সুইং এবং নির্ভুলতা প্রথম ওভারে ব্যাটসম্যানদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

৩. প্রবীণ কুমার – ১৫ উইকেট

প্রাক্তন ভারতীয় পেসার প্রবীণ কুমার নতুন বলে সুইংয়ের মাধ্যমে উইকেট তুলে নেওয়ার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইপিএল-এ তিনি পাঁচটি দলের হয়ে খেলেছেন—রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, পাঞ্জাব কিংস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, গুজরাট লায়ন্স এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।

তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারে ১১৯ ম্যাচে ৯০ উইকেট রয়েছে, এবং এর মধ্যে ১৫টি উইকেট এসেছে প্রথম ওভারে। প্রবীণের সময়ে তিনি নতুন বলের সঙ্গে দুর্দান্ত বোলিং করে দলকে শুরুতেই সুবিধা এনে দিতেন। তাঁর সুইং বোলিং তৎকালীন ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

৪. সন্দীপ শর্মা – ১৩ উইকেট

সন্দীপ শর্মা আইপিএল-এ একজন অভিজ্ঞ বোলার। ২০১৩ সালে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে তিনি আইপিএল-এ অভিষেক করেন এবং ৩/২১ তুলে নেন, যা এখনও একজন ভারতীয় বোলারের অভিষেকে সেরা বোলিং ফিগারগুলোর একটি।

সন্দীপ ক্যারিয়ারের শুরুতে নতুন বলে বোলিং করতেন, তবে সময়ের সঙ্গে তিনি ডেথ ওভারে দক্ষতা অর্জন করেছেন। তিনি রাজস্থান রয়্যালস, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং পাঞ্জাব কিংসের হয়ে খেলেছেন। তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারে প্রথম ওভারে ১৩টি উইকেট রয়েছে, যা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ।

৫. দীপক চাহার – ১৩ উইকেট

দীপক চাহার একজন পুরোদস্তুর সুইং বোলার, যিনি নতুন বলের গতিবিধির ওপর নির্ভর করেন। ২০১৬ সালে আইপিএল-এ অভিষেকের পর তিনি তিনটি দলের হয়ে খেলেছেন—রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট, চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালস।

চাহার পাওয়ারপ্লেতে নির্ভরযোগ্য বোলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তিনি প্রথম ওভারে ১৩টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে তিনি তিনবার আইপিএল শিরোপা জিতেছেন, এবং তাঁর সুইং বোলিং দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রথম ওভারে বোলিংয়ের শিল্প

আইপিএল-এ প্রথম ওভারে বোলিং করা একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। ব্যাটসম্যানরা আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলতে নামে, এবং পিচগুলো প্রায়ই ব্যাটিংয়ের জন্য উপযোগী হয়। এমন পরিস্থিতিতে বোলারদের নতুন বলের সঙ্গে সুইং, সিম মুভমেন্ট এবং নির্ভুলতার মাধ্যমে ব্যাটসম্যানদের চমকে দিতে হয়। ট্রেন্ট বোল্ট এবং ভুবনেশ্বর কুমারের মতো বোলাররা এই শিল্পে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন।

প্রবীণ কুমার তাঁর সময়ে এই কৌশলের পথিকৃৎ ছিলেন, যখন আইপিএল সবে শুরু হয়েছিল। সন্দীপ শর্মা এবং দীপক চাহারও তাঁদের ক্যারিয়ারে এই দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। এই বোলাররা প্রমাণ করেছেন যে, ব্যাটিং-বান্ধব পরিস্থিতিতেও সঠিক কৌশল এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে শুরুতেই প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব।

সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া

আইপিএল-এ প্রথম ওভারে উইকেট পড়লে সমর্থকদের উৎসাহ তুঙ্গে ওঠে। একজন সমর্থক বলেন, “ট্রেন্ট বোল্ট যখন প্রথম ওভারে উইকেট নেন, ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়।” আরেকজন ভুবনেশ্বরের প্রশংসা করে বলেন, “তাঁর সুইং বোলিং ভারতীয় ক্রিকেটের গর্ব।”

আইপিএল-এ প্রথম ওভারে সর্বাধিক উইকেট শিকারী বোলারদের তালিকায় ট্রেন্ট বোল্ট এবং ভুবনেশ্বর কুমারের আধিপত্য দেখা যায়। প্রবীণ কুমার, সন্দীপ শর্মা এবং দীপক চাহারও তাঁদের দক্ষতা দিয়ে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। এই বোলাররা প্রমাণ করেছেন যে, ব্যাটিংয়ের দাপটের মধ্যেও বোলিংয়ের শিল্প জীবন্ত রয়েছে। আইপিএল ২০২৫ চলাকালীন এই রেকর্ডগুলো আরও পরিবর্তিত হতে পারে, এবং সমর্থকরা অপেক্ষায় রয়েছেন নতুন নায়কদের উত্থানের জন্য।