আইপিএল ২০২৫ (IPL 2025) মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের তরুণ ব্যাটার তিলক বর্মার ‘রিটায়ার্ড আউট’ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও এমন ঘটনা ক্রিকেটের এই জনপ্রিয় লিগে নতুন নয়। শুক্রবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচে তিলকের এই ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তবে আইপিএলের ইতিহাসে এর আগেও তিন জন ক্রিকেটার ‘রিটায়ার্ড আউট’ হয়েছেন। অর্থাৎ, তিলক চতুর্থ ব্যাটার যিনি দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তে বা পরিস্থিতির চাপে মাঠ ছেড়েছেন।
তিলকের ঘটনা: কী ঘটেছিল?
শুক্রবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ২০৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করছিল। ১৮ ওভার ৫ বলে তিলক বর্মা রিটায়ার্ড আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তখন তিনি ২৩ বলে ২৫ রান করেছিলেন, মাত্র দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। শেষ ১২ বলে ২৯ রান দরকার ছিল, কিন্তু তিলক বড় শট খেলতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। শার্দুল ঠাকুরের ইয়র্কার ও লো ফুলটসে তিনি ও হার্দিক পান্ডিয়া আটকে যান। ফলে মুম্বই তাঁকে ফিরিয়ে মিচেল স্যান্টনারকে পাঠায়। এই সিদ্ধান্তে বিতর্ক তৈরি হয়, সূর্যকুমার যাদব পর্যন্ত ডাগআউটে প্রতিবাদ জানান। তবে এটি আইপিএলে প্রথম ঘটনা নয়।
প্রথম রিটায়ার্ড আউট: অশ্বিনের সাহসী পদক্ষেপ
আইপিএলে ‘রিটায়ার্ড আউট’ প্রথম ঘটনা ঘটে ২০২২ সালে। রাজস্থান রয়্যালসের অলরাউন্ডার রবিচন্দ্রন অশ্বিন লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ম্যাচে এই কৌশলের শুরু করেন। ২৩ বলে ২৮ রান করে তিনি নিজেকে আউট ঘোষণা করেন, যাতে রিয়ান পরাগ মাঠে নামতে পারেন। এটি ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা তখন বেশ আলোচিত হয়। অশ্বিনের এই পদক্ষেপ আইপিএলে ‘রিটায়ার্ড আউট’-এর পথ খুলে দেয়।
দ্বিতীয় ঘটনা: অথর্ব তাইদের অপ্রত্যাশিত প্রস্থান
২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা দেখা যায়। পঞ্জাব কিংসের তরুণ ব্যাটার অথর্ব তাইদে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে রিটায়ার্ড আউট হন। ২৯ বলে ৫৫ রান করা অথর্বকে ফিরিয়ে দল আরও গতি আনতে চেয়েছিল। তবে এই সিদ্ধান্ত খুব একটা ফল দেয়নি, কারণ পঞ্জাব ম্যাচটি হেরে যায়।
তৃতীয় ঘটনা: সাই সুদর্শনের প্রত্যাবর্তন
একই মরসুমে গুজরাট টাইটান্সের সাই সুদর্শন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে রিটায়ার্ড আউট হন। ৩১ বলে ৪৫ রান করে তিনি মাঠ ছাড়েন, যাতে দল শেষ দিকে বড় শটের জন্য অন্য ব্যাটারকে সুযোগ দিতে পারে। এটিও ছিল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যদিও ফলাফল মিশ্র ছিল।
তিলকের ঘটনা: চতুর্থ অধ্যায়
তিলক বর্মার ঘটনা এই তালিকায় চতুর্থ সংযোজন। লখনউয়ের বিরুদ্ধে ১২ রানে হারা মুম্বইয়ের এই সিদ্ধান্তে সমালোচনা হয়েছে। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা, যেমন হরভজন সিং ও বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, স্যান্টনারকে পাঠানোর যুক্তি খুঁজে পাননি। তবে মুম্বইয়ের কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে বলেছেন, “তিলক ভালো খেলছিলেন, কিন্তু বড় শটে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। শেষে ফ্রেশ ব্যাটার দরকার ছিল। এটা কৌশলগত সিদ্ধান্ত।”
‘রিটায়ার্ড আউট’-এর তাৎপর্য
আইপিএলে ‘রিটায়ার্ড আউট’ ক্রিকেটের নিয়মের মধ্যেই থাকলেও বিরল। এটি দলের কৌশল এবং পরিস্থিতির চাহিদার প্রতিফলন। তিলকের ঘটনা বিতর্ক তৈরি করলেও, অশ্বিন, অথর্ব ও সুদর্শনের উদাহরণ দেখায় এটি আইপিএলের অংশ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও দেখা যাবে কি না, সেটাই এখন দেখার।