
রবিবারের শীতের সকালে ঘুম ভাঙার আগেই দৌড়ে নামল গোটা শহর। ওয়ার্ল্ড ২৫কে কলকাতা ম্যারাথন তথা টাটা স্টিল ওয়ার্ল্ড ২৫কে (Tata Steel World 25K) এবার পা দিল দশম বছরে। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের গোল্ড লেবেলপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রথম ২৫ কিলোমিটার ম্যারাথনকে ঘিরে রেড রোডে তৈরি হল উৎসবের আবহ। দেশ-বিদেশের পেশাদার লং রানার থেকে সাধারণ মানুষ, বিশেষভাবে সক্ষম ও সিনিয়র সিটিজেন, সবাই মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার দৌড়বিদ অংশ নিলেন এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞে।
যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডে ‘বিস্ফোরক’ ভাইচুং, নিশানায় কে?
প্রতিবছরের মতো এবছরও প্রতিযোগিতার সূচনা রেড রোড থেকেই। আন্তর্জাতিক অ্যাম্বাসাডর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অলিম্পিক্সে পদকজয়ী তারকা স্প্রিন্টার কেনি বেডনারেক। ম্যারাথনের অন্যতম মুখ প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার ভাইচুং ভুটিয়ার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেয় বাড়তি উচ্ছ্বাস।
রেড রোডে উৎসবের সকাল
ভোর থেকেই রেড রোডে হাজির ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা, মন্ত্রী সুজিত বোস, মেয়র পরিষদের সদস্য দেবাশিস কুমার, প্রাক্তন অ্যাথলিট জ্যোতির্ময়ী সিকদার, অভিনেত্রী শ্রাবন্তী-সহ সেনাবাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা।
বিজয় দিবস ট্রফিতে দৌড়ালেন সেনা ও সেনা পরিবারের সদস্যরা, পুলিশ কাপে অংশ নিলেন এডিজি এসটিএফ বিনীত গোয়েল-সহ পুলিশ কর্মীরা। ২৫ কিলোমিটারের এলিট রানের পাশাপাশি ১০ কিমি দৌড়, বিশেষভাবে সক্ষম ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা বিভাগ এবং ৫ কিমি আনন্দ রান, সব মিলিয়ে রেড রোডে যেন শীতের সকালে এক বর্ণময় কার্নিভাল।
আন্তর্জাতিক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন কারা
২৫কে এলিট রানে পুরুষদের আন্তর্জাতিক বিভাগে ১ ঘণ্টা ১১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড সময় করে চ্যাম্পিয়ন হন উগান্ডার জসুয়া চেপতেগেই। মহিলাদের আন্তর্জাতিক বিভাগে ১ ঘণ্টা ১৯ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে শিরোপা জয় করেন ইথিওপিয়ার ডেজিতু অ্যাজিমেরা। ২০১৭ সালের পর আবারও কলকাতার মুকুট তাঁরই মাথায়।
ভারতীয় বিভাগে নতুন ইতিহাস
ভারতীয় পুরুষদের বিভাগে নজরকাড়া পারফরম্যান্স গুলবির সিংয়ের। ১ ঘণ্টা ১২ মিনিট ০৬ সেকেন্ডে ফিনিশ করে নিজেরই আগের ইভেন্ট রেকর্ড ভেঙে সোনা জেতেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন। সামগ্রিকভাবে তিনি পুরুষদের মধ্যে পঞ্চম স্থান দখল করেন।
ভারতীয় মহিলাদের বিভাগে ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট ০৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে সোনা জিতে নতুন ইভেন্ট রেকর্ড গড়েন সীমা। ২০১৭ সালে সুরিয়া এল-এর করা রেকর্ড ভেঙে দিয়ে কলকাতার ২৫কে ইতিহাসে নিজের নাম তুলে ধরলেন তিনি।
রেকর্ড গড়ে খুশি গুলবির ও সীমা, দু’জনেই। তবে রুটে একাধিক বাঁক না থাকলে সময় আরও ভালো হতে পারত বলেই মত তাঁদের। তবুও এই ফলাফল আগামী কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে বড় অনুপ্রেরণা হবে বলে আশাবাদী দু’জনেই।










