বিশ্বকাপের (T20 World Cup) মঞ্চে নতুন এক অধ্যায় লিখতে চলেছে ফুটবলের দেশ ইটালি। যে দেশের পরিচয় এতদিন এসি মিলান, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান বা নাপোলির মতো ক্লাবের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল। সেই ইটালি এবার জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ফুটবলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য ক্রিকেট বিশ্বকাপে পা রাখা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
ফিনিক্স পাখির মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপে যোগ্যতা পেল পাওলো রোসির দেশ
প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে ইটালি। ইউরোপীয় অঞ্চল থেকে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা। ভারতের মাটিতে হতে চলা এই আসরে নামার আগেই অবশ্য আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইটালির অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্ত। কারণ যিনি দলকে নেতৃত্ব দেবেন, তিনি কোনো সময়েই পেশাদার ক্রিকেটার ছিলেন না। তিনি একজন প্রাক্তন হকি খেলোয়াড়।
৪২ বছর বয়সি ওয়েন ম্যাডসেনই হচ্ছেন ইটালির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ম্যাডসেন একসময় প্রোটিয়াদের হয়ে আন্তর্জাতিক হকি খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে তিনি খেলেছেন ৩৯টি ম্যাচ। ২০০৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং একই বছর হকি বিশ্বকাপেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। হকি ক্যারিয়ার শেষ করে ২০১০ সালে কোচিংয়ে নামেন ম্যাডসেন। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বেলপার হকি ক্লাবের কোচ ছিলেন, পাশাপাশি ২০১৩ সালে তিন মাসের জন্য রেপ্টন স্কুলেও কোচিং করান। উল্লেখযোগ্যভাবে, তাঁর ভাই লয়েড ম্যাডসেনও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে হকি খেলেছেন।
হকি থেকে ক্রিকেট—ম্যাডসেনের এই যাত্রাপথ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ডার্বিশায়ারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। দেশের হয়ে চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খেলেছেন ২৫৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও ১১৭টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও পরিচিত মুখ ম্যাডসেন। ২০২৪ সালে জোবার্গ সুপার কিংস ও রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন। আর ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লন্ডন স্পিরিটের জার্সিতে মাঠে নেমেছেন।
অধিনায়কত্বের দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জো বার্নস। ইটালিকে বিশ্বকাপের মঞ্চে তুলে আনার অন্যতম কারিগর হিসেবেই ধরা হচ্ছিল তাঁকে। তবে শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে জায়গা হয়নি বার্নসের। তাঁর পরিবর্তেই দলের নেতৃত্বভার দেওয়া হয়েছে ম্যাডসেনের কাঁধে।
যদিও অনেকের কাছে ইটালির ক্রিকেট নতুন মনে হতে পারে, দেশটির ক্রিকেট ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরনো। ইটালিতে ক্রিকেটের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৭৯৩ সালে। নেপলস বন্দরে যাত্রাবিরতির সময় এক জাহাজের নাবিকরা ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। উনিশ শতকের শেষদিকে গড়ে ওঠে একাধিক ক্রিকেট ক্লাব ও অ্যাসোসিয়েশন, যার মধ্যে এসি মিলানের নামও উল্লেখযোগ্য। এক সময় ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটও জনপ্রিয় ছিল ইটালিতে। তবে ধীরে ধীরে ফুটবলের জনপ্রিয়তার কাছে হার মানে ক্রিকেট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আবার নতুন করে ডানা মেলে এই খেলা। ১৯৯৫ সালে আইসিসির সহযোগী সদস্য হয় ইটালি, যদিও ১৯৮৪ সাল থেকেই তাদের একটি আইসিসি অনুমোদিত ক্রিকেট দল ছিল।
এই দীর্ঘ পথচলার ফল হিসেবেই এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ইটালি। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা তাদের। যদিও বাংলাদেশ ম্যাচ ঘিরে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে তার আগেই আলোচনার শিরোনামে ইটালির ৪২ বছর বয়সি অধিনায়ক ও তার ব্যতিক্রমী পটভূমি।
ইটালির বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
ওয়েন ম্যাডসেন (অধিনায়ক), মার্কাস ক্যাম্পোপিয়ানো (উইকেটকিপার), জিয়ান পিয়েরো মিদে, জাইন আলি, আলি হাসান, ক্রিশ্চিয়ান জর্জ, অ্যান্থনি মোস্কা, হ্যারি মানেন্তি, জাস্টিন মোস্কা, বেঞ্জামিন মানেন্তি, সৈয়দ নকভি, জশপ্রীত সিং, জেজে স্মাটস, গ্রান্ট স্টুয়ার্ট, থমাস ড্রেকা
