
ভারতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) খেলতে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) অবস্থান যখন অনড়, ঠিক সেই সময়ই বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠল দেশের ক্রিকেট মহল। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক ও ওপেনার তামিম ইকবালকে সরাসরি ‘ভারতের দালাল’ বলে আক্রমণ করলেন বিসিবির অন্যতম ডিরেক্টর নাজমুল ইসলাম। নিজের দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করতে গিয়ে উল্টো দেশদ্রোহের তকমা। এহেন ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট কি নতুন এক গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে?
বিশ্বকাপ জয়ের পর WPL ওপেনিংয়ে বাড়তি চমক, ফ্রিতে কোথায় দেখবেন অনুষ্ঠান?
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশের আপত্তির মাঝেই মুখ খুলেছিলেন তামিম। তাঁর বক্তব্য ছিল সংযত কিন্তু বাস্তববাদী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ, ভবিষ্যৎ সব কিছু মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কথাবার্তার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো গেলে তার চেয়ে ভালো কিছু হয় না।”
তামিমের মূল উদ্বেগ ছিল অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট আয়ের প্রায় ৯০–৯৫ শতাংশ আসে আইসিসি থেকে। ফলে বিসিসিআই বা আইসিসির সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্ষতিই করতে পারে। অহেতুক ‘বিদ্রোহী’ অবস্থান না নিয়ে আলোচনার টেবিলে সমাধান খোঁজার পক্ষে ছিলেন তিনি।
শোকের ছায়া ময়দানে, প্রয়াত ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার
তামিমের এই মন্তব্য ভালোভাবে নেননি বিসিবির ডিরেক্টর নাজমুল ইসলাম। ফেসবুকে তামিমের মন্তব্যের ফটো শেয়ার করে তিনি লেখেন, “এইবার আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দু’চোখ ভরে দেখল।”
এই একটি বাক্যই আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা এক ক্রিকেটারকে এভাবে আক্রমণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সে নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। দীর্ঘদিন ধরেই বিসিবির কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন তামিম। বোর্ড নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েও তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাও এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা। সেই প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যকে অনেকেই ব্যক্তিগত আক্রোশ বলেও দেখছেন।
ভারতে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত এবং সর্বশেষ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা। একাধিক সিদ্ধান্তে বিসিবির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। তামিম ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি বিসিবির সঙ্গে যুক্ত নই। সাধারণ মানুষের মতো আমিও মিডিয়া থেকেই খবর পাচ্ছি। তবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একাধিকবার ভাবা উচিত, কারণ বিষয়টা অত্যন্ত স্পর্শকাতর।”
বিশ্বকাপ ইস্যুতে বর্তমান অবস্থান
৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না এবং বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কার প্রস্তাব দিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়। বিসিসিআই স্পষ্ট করে জানায়, ভেন্যু বদল সম্ভব নয়। আইসিসিও একই অবস্থান নেয় এবং জানিয়ে দেয়—বিশ্বকাপে না খেললে বাংলাদেশের পয়েন্ট কাটা হতে পারে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিসিবি দাবি করে, আইসিসি তাদের কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি এবং তারা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবে।
প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশ ক্রিকেট। কারণ, যে ক্রিকেটার বছরের পর বছর ধরে দেশের হয়ে লড়েছেন, তিনিই আজ বোর্ডের আক্রমণের মুখে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব আর কূটনৈতিক টানাপোড়েন। সব মিলিয়ে আবারও শিরোনামে বাংলাদেশ ক্রিকেট। এই সংঘাতের শেষ কোথায়, আর এর প্রভাব কতটা পড়বে মাঠের পারফরম্যান্সে? সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীরা।










