বিশ্বকাপের (T20 World Cup) আগে বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। নিজেদের সিদ্ধান্তে বিশ্বকাপ থেকে কার্যত সরে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) এখনও হাল ছাড়তে রাজি নয়। বরং তাদের দাবি, বাংলাদেশ অংশ না নিলে আখেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতই। বিশেষ করে আর্থিক দিক থেকে।
বিসিবি এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২০ কোটির বেশি ক্রিকেটপ্রেমী দর্শক বিশ্বকাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপে বড় ধাক্কা খাবে আয়োজক দেশ ভারত এবং আইসিসি। এই যুক্তিকেই ‘তাস’ হিসেবে সামনে আনছে ঢাকা।
তবে এই দাবির বাস্তবতা কতটা? সেই প্রশ্নই উঠেছে ক্রিকেট মহলে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসকে। বৃহস্পতিবার রাতে রায়পুরে ভারত-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিকরা বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চান। কিন্তু কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি বোর্ড সভাপতি। সংক্ষিপ্তভাবে তিনি বলেন, “আমি এখানে এসেছি শুধুমাত্র ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের জন্য।”
বাংলাদেশ সংক্রান্ত একের পর এক প্রশ্নে এই নীরবতা ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। বোর্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই নীরবতা মোটেও কাকতালীয় নয়। আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতীয় বোর্ড কৌশলগত কারণেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছে না।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল একযোগে জানান, ভারতের মাটিতে খেলতে না পারলে বিশ্বকাপ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশ বিশ্বকাপে না থাকলে সেটা আইসিসির জন্য কখনওই সুখবর নয়। ক্রিকেট অলিম্পিকে যাচ্ছে, বিশ্বমঞ্চে আরও বড় হচ্ছে। এমন সময়ে বাংলাদেশ বাদ পড়লে সেটি আয়োজক দেশের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখা হবে।” তিনি আরও জানান, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবে বিসিবি, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারে, তবে ভারতের মাটিতে নয়।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই অবস্থান বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতীও হতে পারে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া পেশাদারিত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্ক। দুটো ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তুলে দিতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের বাজার ও সম্প্রচার কাঠামো এতটাই শক্তিশালী যে শুধুমাত্র একটি দলের অনুপস্থিতিতে বড়সড় আর্থিক ধাক্কা আদৌ আসবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এই মুহূর্তে বল আইসিসির কোর্টে। তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে ভারত, বাংলাদেশ এবং গোটা ক্রিকেট দুনিয়া।
