বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি? BCCI সঙ্গে বৈঠকে জয় শাহ

t20-world-cup-2026-bangladesh-participation-update

ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে একাধিক চিঠি পাঠালেও আইসিসির কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। এই আবহেই রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) শীর্ষ কর্তাদের বৈঠক।

আইএসএলে ইস্ট-মোহনের হোম ম্যাচ হবে কোথায়? উত্তর মিলবে এই দিন

   

রবিবার বরোদায় ভারত-নিউজিল্যান্ড প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীনই বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জয় শাহ। ক্রিকেট মহলের ধারণা, এই বৈঠকে মূলত দুটি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে এসে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকার করে, সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে এবং বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি কীভাবে এগোনো হবে।

নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি, অনড় আইসিসি

কলকাতা নয় ভারতেই বিকল্প ভ্যেনুতে খেলবে বাংলাদেশ? সিদ্ধান্ত জানাল BCB

ভারতে এসে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব নয়, দাবি তুলে বিসিবি ইতিমধ্যেই আইসিসিকে দুটি চিঠি পাঠিয়েছে। প্রথম চিঠির উত্তরে আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং ভারতে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। শোনা যাচ্ছে, দ্বিতীয় চিঠির ক্ষেত্রেও একই ধরনের জবাব দিতে চলেছে আইসিসি।

আইসিসির যুক্তি, বিসিবি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কথা বললেও তার পক্ষে কোনও নির্দিষ্ট বা যুক্তিসংগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের দাবিতে সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই উঠছে না। সূত্রের খবর, আইসিসি প্রায় মনস্থির করেই ফেলেছে যে বিসিবির দ্বিতীয় দাবিও নাকচ করা হবে।

বাংলাদেশ ছাড়াই বিশ্বকাপ?

এই পরিস্থিতিতে জয় শাহ ও বিসিসিআই কর্তাদের বৈঠক ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে? ক্রিকেট মহলের মতে, রবিবারের বৈঠকের পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

রো-কো জুটির প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ভারতের একাদশে বিরাট চমক, নেই তারকা পেসার

সম্ভাবনা রয়েছে, আইসিসির শীর্ষ মহল বিসিসিআইকে নির্দেশ দিতে পারে—বাংলাদেশ খেলতে আসবে ধরেই বিশ্বকাপের সমস্ত প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে। তবে যদি বিসিবি শেষ পর্যন্ত অনড় থাকে এবং দল ভারতে না পাঠায়, তাহলে বাংলাদেশকে ছাড়াই কীভাবে টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করা যায়, সেই বিকল্প পথ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

কী হতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ?

আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। একাধিক সূত্রের মতে, বাংলাদেশের চাপের কাছে মাথা নোয়ানোর কোনও সম্ভাবনা নেই আইসিসির। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচগুলির সূচি বদলানো হবে না। নির্ধারিত দিনে দল মাঠে না নামলে বাংলাদেশ কোনও পয়েন্ট পাবে না, ধরা হবে তারা ওয়াকওভার দিয়েছে এবং প্রতিপক্ষ দল পূর্ণ পয়েন্ট পাবে।

এর আগে এমন নজির রয়েছে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবোয়ে সফরে যেতে অস্বীকার করায় ওয়াকওভার দিয়েছিল ইংল্যান্ড। আবার আরেকটি সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, বাংলাদেশ সরে গেলে অন্য কোনও দলকে তাদের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। যেমন, ২০১৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া খেলতে না যাওয়ায় সেই জায়গায় আয়ারল্যান্ডকে নেওয়া হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ-আইসিসি দ্বন্দ্বে বিশ্বকাপের রাজনীতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। জয় শাহ ও বিসিসিআইয়ের বৈঠকের পরই স্পষ্ট হবে—বাংলাদেশ বিশ্বকাপে থাকবে, নাকি ইতিহাসের আরেকটি বিতর্কিত অধ্যায়ের জন্ম দিতে চলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন