কলকাতায় আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশাল সংখ্যক ভিড় জমায়। কিন্তু এই ইভেন্টটি নিয়ে শুরুতেই সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলার। দর্শকরা এবং ভক্তরা একদিকে মেসিকে দেখার জন্য উৎসাহী ছিলেন, অন্যদিকে ইভেন্টের আয়োজন ও পরিচালনা নিয়ে দেখা দেয় অসন্তোষ। এদিকে, এই ঘটনার রাজনৈতিক দিকটি আরও উত্তেজনা বাড়ায়। ইভেন্টটি নিয়ে সরব হয়েন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তিনি বলেন, “এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মিসম্যনেজমেন্টের উদাহরণ। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা সবাই মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের লোক। এখন তারা আলাদা থাকার ভান করছে, কিন্তু বাস্তবে তৃণমূল এবং আয়োজকরা একই। মেসির চারপাশে যারা ছিলেন, সবাই তৃণমূলের লোকই ছিলেন। তারা ইভেন্টটি হাইজ্যাক করার চেষ্টা করেছে।”
মজুমদারের এই মন্তব্য এঙ্গেজমেন্টের রাজনৈতিক দিককে তীব্র করে তোলে। তিনি আরও বলেন, “যারা মেসিকে ঘিরে ছিলেন, তারা সাধারণ দর্শক বা ভক্তরা নন, বরং তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মী এবং নেতা। পুরো অনুষ্ঠানটি তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল।” এই ধরনের অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
ইভেন্টটি আয়োজনে মূলত উদ্দেশ্য ছিল মেসির সঙ্গে ভক্তদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা। তবে, বিশাল ভিড় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক ভক্ত মেসিকে দেখার সুযোগ পাননি। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক মাধ্যমে। অনেক দর্শক অভিযোগ করেন যে VIP-রা প্রাধান্য পেয়েছে, সাধারণ দর্শকরা প্রায় বাইরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক দিক থেকে দেখা যায়, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস একে অপরকে দোষারোপ করছে। বিজেপি নেতারা তৃণমূলকে ইভেন্টটি রাজনৈতিক দখলের চেষ্টা করার জন্য অভিযুক্ত করছেন, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করছে। তৃণমূলের বক্তব্য, আয়োজকরা ছিলেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এবং রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি কেবল ভক্তদের উৎসাহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে।
মজুমদারের অভিযোগের পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। তিনি বারবার এই দিকটি উল্লেখ করেছেন যে, তৃণমূল এবং আয়োজকরা “একই নৌকায়” আছে। তার মতে, মেসি ইভেন্টটি কেবল একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে হাইজ্যাক করা হয়েছে। এ ধরনের মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটেও প্রভাব ফেলতে পারে।
দর্শকদের অভিজ্ঞতাও এই ইভেন্টের নেগেটিভ প্রভাবের প্রমাণ দেয়। বহু ভক্ত সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন যে, মেসির কাছাকাছি পৌঁছানো ছিল অসম্ভব। অনেকে অভিযোগ করেছেন, VIP ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে সাধারণ ভক্তরা হতাশ হয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি যে কোনও বড় ইভেন্টের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
