ধোনির অবসর নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ স্টিফেন ফ্লেমিং! জল্পনা অব্যাহত

আইপিএল ২০২৫-এর ১৭তম ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) দিল্লি ক্যাপিটালস (DC)-এর কাছে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে…

Stephen Fleming Breaks Silence on MS Dhoni Retirement

আইপিএল ২০২৫-এর ১৭তম ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) দিল্লি ক্যাপিটালস (DC)-এর কাছে সম্পূর্ণভাবে পরাভূত হয়েছে। গত ৫ এপ্রিল চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দিল্লি ২৫ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছে। ম্যাচের আগে এমএস ধোনির (MS Dhoni) অবসর নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল। অনেকে বলছিলেন, এটিই হতে পারে ধোনির শেষ আইপিএল ম্যাচ। এই গুজব আরও জোরালো হয় যখন ধোনির বাবা-মা প্রথমবার চেন্নাইয়ে ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। কিন্তু ম্যাচ শেষে কোনও ঘোষণা না আসায় এই জল্পনা থেমে যায়।

   

ম্যাচের পর সিএসকে-র প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং এই গুজব নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “না, এই গুজব বন্ধ করা আমার কাজ নয়। আমার কোনও ধারণা নেই। আমি এখনও তার সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পাচ্ছি। সে এখনও দারুণ খেলছে। আজকাল আমি এসব প্রশ্ন করিও না। আপনারাই এসব জিজ্ঞাসা করেন।” ফ্লেমিংয়ের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে ধোনির অবসর নিয়ে তিনি কোনও চাপ নিচ্ছেন না এবং তাঁর খেলা উপভোগ করছেন।

ম্যাচে সিএসকে ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছিল। এমএস ধোনি এবং বিজয় শঙ্কর মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে নামেন। দলের রানের গতি বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল, কিন্তু দুজনেই তা করতে ব্যর্থ হন। ধোনি ২৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন, আর শঙ্কর ৫৪ বলে অপরাজিত ৬৯ রান করলেও বড় শটের অভাবে দলকে জয়ের কাছে পৌঁছে দিতে পারেননি। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁরা ৮৪ রানের জুটি গড়েন, কিন্তু দিল্লির বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ আক্রমণের কাছে তা যথেষ্ট হয়নি। সিএসকে ২০ ওভারে ১৫৮/৫-এ থেমে যায়।

দিল্লি প্রথমে ব্যাট করে কেএল রাহুলের ৫১ বলে ৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে ১৮৩ রানের লড়াকু স্কোর গড়ে। অভিষেক পোরেল (২০ বলে ৩৩) এবং ট্রিস্টান স্টাবস (১২ বলে অপরাজিত ২৪) তাঁকে ভালো সমর্থন দেন। দিল্লির বোলাররা—মিচেল স্টার্ক, মুকেশ কুমার এবং খলিল আহমেদ—সিএসকে-র ব্যাটিং লাইনআপকে ধরাশায়ী করে দেয়।

গায়কোয়াড়ের প্রতিক্রিয়া: দলের দুর্বলতা উন্মোচিত

ম্যাচের পর সিএসকে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় দলের ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, “গত কয়েকটি ম্যাচ ধরে আমাদের পক্ষে কিছুই যাচ্ছে না। আমরা উন্নতি করার চেষ্টা করছি, সর্বোচ্চ দিচ্ছি, কিন্তু ফল পাচ্ছি না। আমরা অনেক বেশি উইকেট হারাচ্ছি। বোলিংয়েও সমস্যা রয়েছে। আমরা ১৫-২০ রান বেশি দিচ্ছি বা ব্যাটিংয়ে অনেক উইকেট হারাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি, কিন্তু কিছুতেই হচ্ছে না।” গায়কোয়াড়ের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে সিএসকে-র ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই গভীর সমস্যা রয়েছে।

এই মরশুমে সিএসকে-র শুরু হতাশাজনক। প্রথম চার ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলে অষ্টম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি তিন ম্যাচে তিন জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে। চেপাকে এই হার দলের জন্য বড় ধাক্কা, বিশেষ করে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় পরাজয়।

ধোনির অবসর নিয়ে জল্পনা: কী বলছেন ফ্লেমিং?

ম্যাচের আগে ধোনির অবসর নিয়ে গুজব তুঙ্গে ছিল। অনেকে মনে করেছিলেন, এই ম্যাচের পর তিনি আইপিএল থেকে বিদায় নেবেন। ধোনির বাবা-মা, পঙ্কজ এবং দেবকী ধোনি, চেন্নাইয়ে প্রথমবার ম্যাচ দেখতে এসে এই জল্পনায় ইন্ধন জোগান। স্টেডিয়ামে তাঁদের উপস্থিতি ধরা পড়ে বড় পর্দায়, এবং দর্শকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। কিন্তু ম্যাচ শেষে ধোনি বা দলের তরফে কোনও ঘোষণা আসেনি।

ফ্লেমিং এই গুজব নিয়ে হালকা মেজাজে বলেন, “আমি এসব নিয়ে ভাবি না। ধোনির সঙ্গে কাজ করা আমার জন্য আনন্দের। সে এখনও শক্তিশালী। আমি তাকে এসব জিজ্ঞাসাও করি না। আপনারাই এই প্রশ্ন তুলছেন।” ফ্লেমিংয়ের কথায় বোঝা যায়, ধোনি এখনও খেলা চালিয়ে যেতে পারেন, এবং তিনি এই তারকার উপর কোনও চাপ দিতে চান না।

ধোনির পারফরম্যান্স: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

ম্যাচে ধোনি সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামেন। দর্শকরা তাঁর কাছ থেকে বড় শট এবং ম্যাচ জেতানো ইনিংসের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ২৬ বলে ৩০ রানের ইনিংসে তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৫.৩৮, যা লক্ষ্য তাড়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। বিজয় শঙ্করের সঙ্গে জুটি গড়লেও, দুজনের ধীরগতির ব্যাটিং দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।

সিএসকে-র চ্যালেঞ্জ: কোথায় সমস্যা?

গায়কোয়াড়ের মন্তব্যে স্পষ্ট, সিএসকে-র ব্যাটিং এবং বোলিং দুই বিভাগেই সমস্যা রয়েছে। শীর্ষ ক্রমে রাচিন রবীন্দ্র (৩), ডেভন কনওয়ে (১৩), এবং গায়কোয়াড় (৫) দ্রুত আউট হয়ে দলকে চাপে ফেলেন। মিডল অর্ডারে শিবম দুবে (১৮) এবং রবীন্দ্র জাদেজা (২) ব্যর্থ হন। বোলিংয়ে অতিরিক্ত রান দেওয়া এবং উইকেট না নেওয়া দলের জন্য আরেকটি দুর্বলতা।

Advertisements

দিল্লি এই ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। রাহুলের ৭৭ রানের ইনিংস দলকে শক্ত ভিত দিয়েছে, আর বোলাররা সিএসকে-কে চাপে রেখে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তিন ম্যাচে তিন জয়ে দিল্লি এখন পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

ধোনির অবসর নিয়ে গুজব থামলেও, সিএসকে-র জন্য এই হার উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফ্লেমিং ধোনির খেলা উপভোগ করলেও, দলের ফর্ম নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে সিএসকে-কে এখন বড় পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যদিকে, দিল্লি তাদের দাপট অব্যাহত রেখে আইপিএল ২০২৫-এ শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে। ধোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা থাকলেও, তিনি এখনও মাঠে থাকবেন কি না, তা সময়ই বলবে।