পহেলগাঁও ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর হায়দরাবাদ-মুম্বই ম্যাচে বড় সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের

srh-vs-mi-no-fireworks-bcci-pays-tribute-pahalgam-terror-attack

২২ এপ্রিল, মঙ্গলবার, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওে (Pahalgam terror attack) এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা দেশ শোকাহত ও হতবাক। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) বুধবার হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (SRH vs MI) মধ্যকার আইপিএল ম্যাচে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

হায়দরাবাদ বনাম মুম্বই ম্যাচে কী হবে?

   

ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে। উভয় দলের খেলোয়াড় এবং ম্যাচ অফিসিয়ালরা নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে কালো আর্মব্যান্ড পরবেন। শোকের প্রতীক হিসেবে ম্যাচে কোনও আতশবাজি বা চিয়ারলিডার পারফরম্যান্স থাকবে না। এই ম্যাচটি আজ রাত ৭:৩০ টায় শুরু হবে। 

প্রাক্তন তারকা দলের ফেরায় উচ্ছ্বসিত নাইট শিবির! বড় বার্তা নাইট অধিনায়কদের

ক্রিকেটারদের শোক প্রকাশ

ভারতের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটাররা এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। বিরাট কোহলি তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “পহেলগাঁওে নিরীহ মানুষের উপর এই জঘন্য হামলায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের জন্য শান্তি ও শক্তির প্রার্থনা করছি এবং এই নৃশংস কাজের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

বিরাট থেকে গম্ভীর, পহেলগাঁওে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ভারতীয় ক্রিকেট মহলে শোকের ছায়া

ভারতীয় দলের সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রী এই হামলাকে কাপুরুষোচিত কাজ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই বেদনাদায়ক সময়ে গোটা জাতির ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানো উচিত।” এছাড়া, গৌতম গম্ভীর, শুভমান গিল, কে এল রাহুল এবং যুবরাজ সিং-সহ অনেক ক্রিকেটার সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পহেলগাঁওে কী ঘটেছিল?
মঙ্গলবার দুপুরে পহেলগাঁওের (Pahalgam terror attack) একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থানের কাছে জঙ্গিরা অতর্কিত গুলি চালায়। এই হামলায় অন্তত ২৬ জন, যাদের বেশিরভাগই পর্যটক, প্রাণ হারান। এটি ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরে সবচেয়ে মারাত্মক জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে দ্য রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)। এটি পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার একটি শাখা।

সরকারি পদক্ষেপ
হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ বাইসারান এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ শ্রীনগরে পৌঁছে একটি উচ্চ-পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে এসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন