আইএসএল অনিশ্চয়তায় বিস্ফোরক সৌভিক: জীবন-জীবিকা ঝুঁকিতে ফুটবল

গত বছর পর্যন্ত স্বগৌরবে আয়োজিত হয়েছে দেশে প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ (ISL)। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিগত কয়েক মাস ধরেই অনিশ্চয়তার অন্ধকারে রয়েছে আইএসএল।…

souvik chakrabarti east bengal player

গত বছর পর্যন্ত স্বগৌরবে আয়োজিত হয়েছে দেশে প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ (ISL)। কিন্তু এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিগত কয়েক মাস ধরেই অনিশ্চয়তার অন্ধকারে রয়েছে আইএসএল। আগেই জানা ছিল যে চলতি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং এফএসডিএলের মধ্যে চুক্তি শেষ হতে চলেছে। সেই মতো শেষ কয়েক মাসে ক্লাব গুলির পাশাপাশি ফুটবল সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসলেও কিছুতেই মিল ছিল না সমাধান সূত্র। পরবর্তীতে এতে হস্তক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ধীরে ধীরে বৈঠকের পর বৈঠক এগিয়ে গেলেও আটকে ছিল সমস্ত কিছু।

Advertisements

কিন্তু শেষ কয়েক সপ্তাহে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ক্লাব জোটের সঙ্গে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বৈঠকের পর খুলতে শুরু করে জট। যার ফলে সব ঠিকঠাক থাকলে নতুন বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হতে পারে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। কিন্তু এবার বদল আসছে টুর্নামেন্টের ফরম্যাটে। অন্যান্য বছরগুলিতে হোম এবং অ্যাওয়ে ম্যাচের ব্যবস্থা থাকলেও এবার রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে গোটা টুর্নামেন্ট। যেখানে মোট ১৪ টি দলকে দুইটি বিভাগে ভাগ করে নির্বাচিত ভেন্যুগুলিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ গুলি। এখনও পর্যন্ত ‌ তেমনটাই খবর।

   

তবে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ইতিমধ্যেই ক্লাব গুলির সঙ্গে চুক্তি চিহ্ন করেছে একের পর এক হাইপ্রোফাইল তারকা। যেটা নিঃসন্দেহে অশনি সংকেত দেয় ভারতীয় ফুটবল ব্যবস্থাকে। এমন পরিস্থিতিতে এবার নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন ইস্টবেঙ্গলের তারকা ফুটবলার সৌভিক চক্রবর্তী। আজ কিছুক্ষণ আগে নিজের সোশ্যাল সাইটে সেই সম্পর্কিত একটি পোস্ট করেন এই মিডফিল্ডার। যেখানে তিনি লেখেন, ‘ আমার মনে হয় না মানুষ আর সত্যি বুঝতে পারছে যে কী ঝুঁকির মুখে রয়েছে।যদি এখন এর সমাধান না করা হয়, তবে শুধু ভারতীয় ফুটবলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। হাজার হাজার জীবন স্থায়ীভাবে প্রভাবিত হবে। এটা শুধু খেলোয়াড়দের ব্যাপার নয়। ভারতীয় ফুটবলে কর্মরত অনেকেরই কোনো সঞ্চয় নেই, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি নেই, বা তাদের জন্য অন্য কোনো বিকল্পও নেই। তারা মাস শেষে বেতনের উপর নির্ভর করে চলে। তাদের বেতনই বেঁচে থাকার একমাত্র উৎস। যখন বেতন বন্ধ হয়ে যায়, জীবনও থেমে যায়।’

আরও লেখেন, ‘ খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ফিজিও, বিশ্লেষক, মিডিয়া টিম, কিট ম্যানেজার, মাঠকর্মী, চালক, অপারেশনস টিম, বিক্রেতা এবং স্থানীয় অংশীদাররা। পুরো পরিবার এই ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসার প্রয়োজন, ভাড়া, খাবার—সবকিছুর খরচ ফুটবল থেকেই আসে।
সিদ্ধান্তগুলো প্রায়শই টেবিলের উপর রাখা ফাইলের মতো করে আলোচনা করা হয়। কিন্তু প্রতিটি বিলম্ব, প্রতিটি নীরবতা, প্রতিটি স্থগিত মরসুমের পেছনে এমন কিছু বাস্তব মানুষ আছেন, যারা বাড়িতে বসে আছেন কোনো স্পষ্ট ধারণা ছাড়া, কোনো আয় ছাড়া এবং তাদের পরিবারকে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর ছাড়া।
সভা হচ্ছে। আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু সময় ফুরিয়ে আসছে। যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, ক্লাবগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে যা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। মালিকরা সরে যেতে পারেন। কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে। খেলোয়াড়রা খেলা ছেড়ে দেবে, এই কারণে নয় যে তারা চায়, বরং তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না বলে।’

এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে লাল-হলুদের এই ভারতীয় ফুটবলার মনে করেন, ‘এমনটা চলতে থাকলে হয়তো নতুন করে আর কোনো কিছুই করা সম্ভব হবে না। ‌যদি সিনিয়র পর্যায়ে কোনো স্থিতিশীল পথ না থাকে, তাহলে কি অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ফুটবল খেলতে দেবেন? যদি শীর্ষ স্তর বন্ধ হয়ে যায় বা ক্রমাগত অনিশ্চিত থাকে, তাহলে তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবলের কী হবে? যদি খেলোয়াড়দের বিকশিত হওয়ার কোনো জায়গা না থাকে, তাহলে একাডেমির উদ্দেশ্য কী? যখন মানুষের জীবিকা ভেঙে পড়ছে, তখন আপনি উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে পারেন না।’

Advertisements