
আই লিগ ২০২৪-২৫-এর চতুর্থ রাউন্ডে শিলংয়ের এসএসএ স্টেডিয়ামে রবিবার এক ঐতিহাসিক ম্যাচে শিলং লাজং এফসি (Shillong Lajong FC) রাজস্থান ইউনাইটেড এফসিকে ৮-০ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে। মরুর দলের বিরুদ্ধে এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স আই লিগে চলতি মরশুমের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জয়।
প্রথম তিনটি ম্যাচে জয়ের মুখ না দেখা শিলং লাজং এই ম্যাচে পুরোপুরি অন্যরূপে দেখা দিল। ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ফিগো সিন্ডাইয়ের গোলে শিলং লাজং এগিয়ে যায়। এরপর ১৭ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ডগলাস টার্ডিন এবং প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ড্যানিয়েল গনসালভেসের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে রক্তক্ষয়ী ধ্বংসযজ্ঞ
দ্বিতীয়ার্ধে রাজস্থান ইউনাইটেডের জন্য কোনো রকম রেহাই ছিল না। শিলং লাজং একের পর এক আক্রমণে তাদের রক্ষণকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে মোট পাঁচটি গোল হয়। ৪৯ মিনিটে দমাইৎফাং লিংডোহ স্কোরলাইন ৪-০ করেন। মাত্র দুই মিনিট পরেই (৫১ মিনিট) ডগলাস টার্ডিন তাঁর দ্বিতীয় গোলটি করেন। এরপর ৬১ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মার্কোস রুডওয়ে গোল করেন।
স্প্যানিশ খেলোয়াড় ইমানোল আরানা সাদাবা ৬৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন এবং ৮৭ মিনিটে দলের হয়ে শেষ গোলটি করেন হার্ডি নংব্রি। ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৮-০।

রাজস্থানের রক্ষণভাগের বিপর্যয়
রাজস্থান ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের খেলা এই ম্যাচে পুরোপুরি বিপর্যস্ত ছিল। ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ম্যাচের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের রক্ষণ আরো বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে তারা কিছুটা হলেও প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও দ্বিতীয়ার্ধে সেই প্রতিরোধের চিহ্নটুকুও দেখা যায়নি।
শিলং লাজং-এর আক্রমণের ঢেউ
শিলং লাজং-এর আক্রমণাত্মক খেলা পুরো ম্যাচ জুড়েই বজায় ছিল। প্রথম গোলটি আসে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সাদাবার দারুণ এক অ্যাসিস্ট থেকে। বাঁ দিক থেকে পাঠানো সেন্টারটি ফিগো সিন্ডাই নিখুঁতভাবে গোলে পরিণত করেন।
দ্বিতীয় গোলটিও আসে বাঁ দিক থেকে। ডগলাস টার্ডিন দারুণ এক ক্রস পেয়ে তা গোললাইনের ভেতরে ফ্লিক করেন। তৃতীয় গোলটি হয় কর্নার থেকে, যেখানে ড্যানিয়েল গনসালভেস নিজের পায়ে বলটি ধরে নিখুঁতভাবে শটে পরিণত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে শিলং লাজং পুরোপুরি ম্যাচ নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়। তাঁদের আক্রমণাত্মক খেলায় রাজস্থান ইউনাইটেডের রক্ষণে যেন আরও বিশৃঙ্খলা নেমে আসে।
পয়েন্ট টেবিলের অগ্রগতি
এই জয়ের পর চারটি ম্যাচ থেকে শিলং লাজং-এর সংগ্রহ পাঁচ পয়েন্ট। অন্যদিকে, রাজস্থান ইউনাইটেডের সংগ্রহ তিন পয়েন্টেই সীমাবদ্ধ। শিলং লাজং-এর জন্য এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলবে।
পার্টিসান দর্শকদের মুগ্ধতা ও একঘেয়েমি
ম্যাচের প্রথমার্ধে শিলং লাজং-এর আধিপত্য দেখে দর্শকরা উৎসাহিত ছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রাজস্থান ইউনাইটেডের একতরফা পরাজয়ে তারা কিছুটা বিরক্ত হয়ে পড়েন। এত বড় ব্যবধানে জয় বিরল হলেও ম্যাচের একপেশে চরিত্রে দর্শকদের আগ্রহ কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ
শিলং লাজং-এর কোচ ও খেলোয়াড়রা এই জয়কে ভবিষ্যতের ম্যাচগুলির প্রস্তুতির একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। এই ফর্ম বজায় রেখে তারা পয়েন্ট টেবিলে আরও উপরে উঠতে চান। অন্যদিকে, রাজস্থান ইউনাইটেডের জন্য এই হার থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের রক্ষণে উন্নতি না করলে পরবর্তী ম্যাচগুলিতেও একই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
শিলং লাজং-এর এই ঐতিহাসিক জয় শুধুমাত্র তাদের মরশুমের মোড় ঘোরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়, আই লিগের ইতিহাসেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য ম্যাচ হয়ে থাকবে। তবে রাজস্থান ইউনাইটেডের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা, যা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অত্যন্ত কঠিন হলেও প্রয়োজনীয়।










