কলকাতা: জল্পনাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ক্রীড়ামন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছায় সম্মতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে জানা যাচ্ছে, আপাতত রাজ্যের ক্রীড়াদপ্তরের দায়িত্ব নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা ও জল্পনা।
গত কয়েকদিন ধরেই অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছিল। বিশেষ করে মেসি ইভেন্ট সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে আসার পর থেকেই চাপ বাড়ছিল ক্রীড়ামন্ত্রীর উপর। বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয় এবং ক্রীড়াদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে। সেই প্রেক্ষাপটেই অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা হয় অরূপ বিশ্বাসের। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন এবং ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন। যদিও সরকারিভাবে এখনও বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবু নবান্ন সূত্রে এই খবর কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। অরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর আমলে রাজ্যে একাধিক ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স, জেলা স্তরে ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করত শাসক দল। তবে সাম্প্রতিক বিতর্ক সেই ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দেয়।
মেসি ইভেন্ট সংক্রান্ত বিষয়টি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক স্তরেও আলোড়ন তোলে। ইভেন্ট আয়োজন, অর্থ ব্যয়, পরিকল্পনার বাস্তবতা—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বিরোধী দল বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোট এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপদার্থতার অভিযোগ তোলে। এর ফলে শাসক দলের উপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ক্রীড়াদপ্তরের দায়িত্ব হাতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। প্রশাসনিক মহলের মতে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে যেমন তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছেন, অন্যদিকে ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
