
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) শুরু হওয়ার আগেই জটিলতায় পড়েছে মার্কিন ক্রিকেট দল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া চার জন মার্কিন ক্রিকেটার ভারত সফরের ভিসা পাননি, ফলে তাঁদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ২০ সদস্যের স্কোয়াডে থাকা এই চার ক্রিকেটার হলেন আলি খান, শায়ান জাহাঙ্গির, মহম্মদ মহসিন এবং এহসান আদিল। তাঁদের মধ্যে তিন জন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, ভারতীয় ভিসা না পাওয়ায় তাঁরা আপাতত টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছেন না।
এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন পেসার আলি খান বলেন, “আমরা চার জনই ভিসার জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আমাদের জানানো হয়েছে যে ভারত সফরের অনুমতি মিলছে না। এর ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা সম্ভব হচ্ছে না।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই চার ক্রিকেটারের জন্ম পাকিস্তানে হলেও তাঁরা বর্তমানে মার্কিন নাগরিক। তবে ভারতের ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জন্মভূমির পাসপোর্ট সংক্রান্ত অতিরিক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সেই কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউএই, ওমান, নেপাল, কানাডা, ইংল্যান্ড, জিম্বাবোয়ে ও নেদারল্যান্ডস—এই দেশগুলির দলেও পাকিস্তান-জন্ম ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভিসা সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ক্রিকেটারদের পটভূমি প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, এহসান আদিল পাকিস্তানের শেখুপুরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের হয়ে তিনটি টেস্ট ও ছয়টি ওয়ানডে খেলেছেন। চার বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং বর্তমানে সেখানে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন। আলি খানের জন্ম পাঞ্জাবের আটকে, শায়ান জাহাঙ্গিরের করাচিতে এবং মহম্মদ মহসিনের জন্ম খাইবার পাখতুনখোয়ার মিঙ্গোরায়।
এটি প্রথমবার নয়। অতীতেও পাকিস্তান-জন্ম ক্রিকেটারদের ভারতীয় ভিসা নিয়ে সমস্যা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ। ২০১৯ সালে জুলফিকার ভ্রাতৃদ্বয় সিকন্দর ও সাকিব ভিসা পাননি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে শিরাজ আহমেদের ভিসা পেতে দেরি হয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার উসমান খোয়াজা এবং ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার রেহান আহমেদ ও শোয়েব বশিরও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিলেন।
এই পরিস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে দলগুলির সেরা কম্বিনেশন মাঠে নামানোই মূল লক্ষ্য। ভিসা জটিলতায় যদি খেলোয়াড়রা বাদ পড়েন, তা সরাসরি প্রতিযোগিতার মান ও দলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলিকে ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে সহায়তা করছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় আইসিসির উপর চাপ বেড়েছে বলেও স্বীকার করা হয়েছে। আগামী দিনে এই সমস্যার কোনও সমাধান হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেট বিশ্বে।










