ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য ও অবদানের স্বীকৃতিতে ২০২৬ সালের পদ্ম (Padmashree) সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন দেশের একঝাঁক কৃতী ক্রীড়াবিদ ও প্রশিক্ষক। এ বছর মোট ৯ জন ক্রীড়াবিদ পাচ্ছেন পদ্ম সম্মান। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ক্রিকেটের দুই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও হরমনপ্রীত কৌর। পাশাপাশি টেনিস কিংবদন্তি বিজয় অমৃতরাজ পাচ্ছেন দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ।
ভারতীয় ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সাফল্যের দুই মুখকে এবার বিশেষভাবে সম্মানিত করছে কেন্দ্র। প্রথমবার ভারতকে মহিলা বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর পাচ্ছেন পদ্মশ্রী। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১১ বছরের ট্রফিখরা কাটিয়ে রোহিত শর্মার নেতৃত্বেই ভারত জেতে ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন রোহিত।
এবারের পদ্ম তালিকায় একমাত্র ক্রীড়াবিদ হিসেবে পদ্মভূষণ পাচ্ছেন টেনিস কিংবদন্তি বিজয় অমৃতরাজ। ভারতীয় টেনিসকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮৩ সালে তিনি পদ্মশ্রী এবং তার আগেই অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও ভারতীয় ক্রীড়ার সঙ্গে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয়।
ক্রিকেট ছাড়াও অন্যান্য খেলাতেও রয়েছে দেশের গর্বের নাম। জাতীয় দলের প্রাক্তন পেসার প্রবীণ কুমার পাচ্ছেন পদ্মশ্রী। ভারতীয় মহিলা হকি দলের নির্ভরযোগ্য গোলকিপার সবিতা পুনিয়াকেও এই সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য।
এছাড়া কুস্তি জগতের নীরব কারিগর, প্রাক্তন কোচ ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভি পাচ্ছেন মরণোত্তর পদ্মশ্রী। জর্জিয়ার নাগরিক হলেও সুশীল কুমার, যোগেশ্বর দত্ত ও বজরং পুনিয়ার মতো অলিম্পিক পদকজয়ী কুস্তিগিরদের গড়ে তোলায় তাঁর ভূমিকা ছিল অনবদ্য। তাঁর অবদানকে স্মরণ করেই এই সম্মান।
দেশের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্টকেও স্বীকৃতি দিয়েছে পদ্ম তালিকা। তামিলনাড়ুর প্রাচীন মার্শাল আর্ট সিলামবামে বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কে পাজানিভেল। বুন্দেলখণ্ডের লোকজ মার্শাল আর্ট ‘বুন্দেলি ওয়ার’-এর প্রচার ও সংরক্ষণে ভূমিকার জন্য পদ্মশ্রী সম্মান পাচ্ছেন ভগবানদাস রায়কর।
প্রসঙ্গত, ৭৭তম সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্র সরকার এবছরের পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের তালিকা ঘোষণা করেছে। সবমিলিয়ে ১৩১ জনকে পদ্ম সম্মানে ভূষিত করা হবে। এর মধ্যে পদ্ম বিভূষণ পাচ্ছেন ৫ জন, পদ্মভূষণ ১৩ জন এবং পদ্মশ্রী সম্মান পাচ্ছেন ১১৩ জন। বাংলা থেকেও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জন বাঙালি এবছর পদ্ম সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন।
