বন্দুকবাজ ব্রোঞ্জকন্যার হাতে চমকায় মেইতেই তলোয়ার! মণিপুরী যুদ্ধকলাতে দক্ষ মনু ভাকের

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: পিস্তলের মাছিতে চোখ রেখে লক্ষ্য স্থির করে ঘোড়া দাবিয়ে (ট্রিগার টিপে) সর্বশেষ গুলিটি ছুঁড়লেন মনু ভাকের। দশ নম্বরের কোটা শেষে হল গোনাগুনতি। তারপরেই প্যারিস অলিম্পিকে পদক তালিকায় উঠল মনু ভাকেরের নাম। তিনি ভারতের ব্রোঞ্জকন্যা।

শুধু পিস্তল নয়। অলিম্পিক ব্রোঞ্জকন্যা মনুর হাতে মণিপুরী তলোয়ার ঝলকে ওঠে। তলোয়ারবাজির এই খেলাটি মারাত্মক। মণিপুরের রসকলি শোভিত কৃষ্ণভক্ত মেইতেই জনগোষ্ঠীর নিজস্ব যুদ্ধকলা “হুইয়েন লালং”। এই খেলার একাধিক রীতি ও নিয়ম উত্তর পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। পড়শি দেশ মায়ানমারেও এই আগ্রাসী যুদ্ধরীতি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভিন্ন নামে প্রচলিত। তবে মেইতেই রীতির তলোয়ার চালিয়ে আত্মরক্ষায় পারদর্শী মনু ভাকের। অত্যন্ত আক্রমনাত্মক তলোয়ারবাজির পাশাপাশি তিনি সফল বন্দুকবাজ।

   

মনু ভাকের মণিপুরী নন। তিনি হরিয়ানার জাঠ বংশজাত। পশ্চিম ভারতে এই রাজ্য যেমন অন্ধবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে কন্যা ভ্রুণ হত্যায় কুখ্যাত। তেমনই কুস্তির আখড়ার দাঁও-প্যাঁচ ও অন্যান্য খেলায় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ভারতের মান রাখেন এখানকার কন্যারা। কন্যা ভ্রুণ হত্যাকারী পরিবারগুলিও তখন দেশভক্তির গদগদ ঠেলায় সোল্লাসে বলে ওঠে ‘দেশ কি বিটিয়া’! এমনই জাঠভূমির কন্যা মনু ভাকের।

স্বচ্ছল জাঠ পরিবারের মনু তাঁর কিশোরীবেলায় ‘হুইয়েন লালং’ তলোয়ার চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। মণিপুরের এই যুদ্ধকলা দেশের অন্যত্র তেমন একটা প্রচলিত নয় যতটা প্রচলিত কেরলের ‘কলারিপায়াত্তু’.রীতি। তবে মণুর হাতে ঝলকে ছিল মণিপুরী মেইতেই তলোয়ার। এই আত্মরক্ষামূলক কৌশলে তলোয়ার ছাড়াও খালি হাতে লড়াইয়ের হরেক পদ্ধতিতে সাবলীল মনু ভাকের। এই ধরণের খেলার একাধিক পদক বিজয়িনী। পরে তিনি বন্দুকবাজি বেছে নেন। শুরু হয় চাঁদমারিতে মনোনিবেশ।

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে বন্দুকবাজিতে প্রশক্ষিত মনু ভাকেরর সাফল্য খতিয়ান চমকে দেয়। নিজ বিভাগে তিনি ৯ বার বিশ্ব সেরা। একবার এশিয়াড চ্যাম্পিয়ন। এছাড়া কমনওয়েলথ গেমসসহ একাধিক বিশ্বমানের শুটিং প্রতিযোগিতায় তিনি বিশ্বসেরা তকমাধারী। এবার তাঁর সাফল্য খতিয়ানে জুড়ে গেল অলিম্পিকের পদক প্রাপ্তি। যে হাতে তলোয়ার ঘুরত সেই হাতেই পিস্তলের চমক।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন