রাচিনের সেঞ্চুরিতে বিদায় দুই দলের, সেমিতে রোহিত-কোহলিরা

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ (Bangladesh) ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে সম্পর্ক নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গেছে। তবে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। যার…

India Cricket Team Qualify to Champions Trophy 2025 Semifinal

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ (Bangladesh) ও পাকিস্তানের (Pakistan) মধ্যে সম্পর্ক নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গেছে। তবে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। যার ফলে দুই দেশ একে অপরের কাছে অনেকটা নিকট এসেছে। ভারত (India) বিরোধিতা, বিশেষ করে ক্রিকেটের মাঠে, মাঝে মাঝে তাদের সহাবস্থানের অঙ্গীকারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এমন অবস্থায় ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল গত সোমবার। তিন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এই ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, কারণ বাংলাদেশ (Bangladesh) যদি নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বিরুদ্ধে জিতত, তাহলে পাকিস্তানও (Pakistan) সেমিফাইনালের (Semifinal) দৌড়ে টিকে থাকত। কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত, দুই দেশই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ল। সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত (India Cricket Team) এবং নিউজিল্যান্ড।

   

পাকিস্তানের মাটিতে রাওয়ালপিণ্ডির গ্রাউন্ডে সোমবার বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল। বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল পরাজয়ের পর তাদের টুর্নামেন্টে বাঁচতে এবং সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার শেষ সুযোগ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৩৬/৯। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেন, যদিও তার এই ইনিংস ছিল তুলনামূলক ধীর। জাকের আলি ৪৫ রান করে দলের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে, বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মূল সমস্যা ছিল দলের মধ্যে বড় ইনিংসের অভাব, যার ফলে তারা নিজেদের লক্ষ্য পুঁজি হিসেবে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।

নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের শুরুটা ছিল কঠিন। প্রথম ওভারেই উইল ইয়ংকে হারিয়ে তারা চাপে পড়েছিল। তারপর, কেন উইলিয়ামসনকেও নাহিদ রানা দ্রুত প্যাভিলিয়নে পাঠান। সেসময়, বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করতে শুরু করেছিলেন যে, তাদের দল যদি আরও কিছু উইকেট নিতে পারে, তাহলে ম্যাচে তারা ফিরে আসতে পারে। কিন্তু, বাংলাদেশ যতই চাপ সৃষ্টি করুক না কেন, রাচিন রবীন্দ্রের সেঞ্চুরির কারণে সব আশা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

রাচিন রবীন্দ্র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি, কারণ তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে চোট পেয়েছিলেন। তবে, এই ম্যাচে তিনি দারুণ পারফরম্যান্স দেখালেন এবং নিজের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে গেলেন। রবীন্দ্রের সেঞ্চুরি ছিল দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তার ১১২ রানের ইনিংসটি নিউজিল্যান্ডকে জয়ী করে তুলেছিল। রবীন্দ্র, যিনি ২০২৩ সালে বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দ্বিতীয়বারের মতো তার অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠিত করলেন।

যদিও ম্যাচে বাংলাদেশ কিছুটা আশা নিয়ে শুরু করেছিল, তবে নিউজিল্যান্ডের উইকেট পতনের পর তাদের ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তা শেষ পর্যন্ত কাজে আসে। রবীন্দ্র এবং ডেভন কনওয়ে ক্রিজে যোগদান করার পর বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে ফেলেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে টম ল্যাথামের ৫৫ রানের ইনিংস এবং গ্লেন ফিলিপস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের ছোট পার্টনারশিপে নিউজিল্যান্ড ম্যাচটি জিততে সক্ষম হয়।

এদিকে, পাকিস্তানও নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে যায় এবং এরপর ভারতের বিপক্ষেও পরাজিত হয়। শেষ পর্যন্ত, গ্রুপ এ থেকে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড এবং ভারত, আর বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল। যদিও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য এই বিদায় ছিল অপ্রত্যাশিত।